কলকাতা: আজ মে মাসের শেষ দিন। গোটা মে মাসজুড়ে কলকাতায় ‘তেমন’ গরম পড়ল না। ‘তেমন’ অর্থাৎ, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির নীচেই থাকল। ফলে কোনওসময়ই তাপমাত্রা মাত্রাতিরিক্ত হয়নি। অপেক্ষাকৃত আরমদায়ক মে মাস খানিকটা অবাকই করল শহরবাসীকে। কারণ, গত বছর মে’র শুরুর দিকেই ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল পারদ। অতীতের সে দহনজ্বালা ভলতে চেয়েও ভোলা সম্ভব নয়।
আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১১ মে কলকাতার তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ। সেদিন ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠেছিল। এছাড়া আরও দু-একদিন ৩৮ বা ৩৯ ডিগ্রির আশপাশে ঘুরপাক খেয়েছে। তবে কোনওদিনই তা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ায়নি। এরই মধ্যে নিম্নচাপ বয়ে গিয়েছে। তার হাত ধরে এবং নানাবিদ কারণে বর্ষাও এসেছে এগিয়ে। ফলে এ বছর তীব্র গরমের হাত থেকে রেহাই। একেবারে কান ঘেঁষে বেরিয়ে গেল ঠা ঠা পোড়া গরম। তেমনভাবে ছেঁকা খেতে হল না কলকাতাকে।
কলেজ স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা দোকানদারি করেন। বললেন, ‘সত্যিই না! মে মাস কেটে গেল! গরমে তেমন কষ্ট পেলাম না।’ সবমিলিয়ে দিন তিনচারেক গরমে একটু কষ্ট পোহাতে হয়েছে। কিন্তু তীব্র দহন পোড়েনি শহর। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস বলেন, ‘কলকাতায় তাপমাত্রা বেড়েছিল। কিন্তু ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছয়নি। তবে কলকাতার বাইরে তাপপ্রবাহ হয়েছে। আসলে এ বছর কলকাতায় যে সময়ে ৪০ ডিগ্রি হওয়ার কথা ঠিক তখনই ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিলের শেষ থেকে মে পর্যন্ত। যে বছর ঝড়-বৃষ্টি বেশি হয় সে বছর তাপপ্রবাহ কম থাকে। দিনের কোনসময় ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে সেটিও হচ্ছে মূল বিষয়।’ এবছর ঝড়-বৃষ্টি বেশিরভাগ দিন দুপুর থেকে শুরু হয়েছিল। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হয়নি। উল্টে বদলে শীতল হয়ে গিয়েছে হাওয়া।’
সৌমেন নন্দী নামে এক ডেলিভারি সংস্থার কর্মী বলেন, ‘এবছর গরমকালে খুব একটা অসুবিধে হয়নি। আমরা বেশিরভাগ সময় রাস্তায় থাকি। গরম হাওয়া টের পেয়েছি বটে তবে তার তীব্রতা অন্যান্য বছরের মতো অতটা ছিল না।’ তবে অধিকাংশ শহরবাসীর বক্তব্য, ‘তাপপ্রবাহ ছিল না ঠিকই কিন্তু গলদঘর্ম পরিস্থিতি মোটেও স্বস্তি দেয়নি।’ অনেকের অবশ্য এও বক্তব্য, ‘গরমকালে একেবারেই ঘাম হবে না! গরম পড়বে না! এসব অলীক স্বপ্ন দেখে লাভ আছে?’ মধ্যবিত্ত অবশ্য কিছুতেই খুশি নয়। অনেকে এখন বলছেন, ‘গরমটা তো যা হোক করে কেটে গেল। এবার বর্ষাকাল কি একেবারে ভাসিয়ে দেবে?’
মে মাস চলে যাচ্ছে। আসছে জুন-জুলাই। এবার বর্ষা নিয়ে চর্চা শুরু। কলকাতা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে জমা জলের খতিয়ান খুঁজতে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন