শ্রীনগর: পহেলগাঁওয়ের বদলা নিতে একাধিক কৌশল নিয়েছে ভারত। সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখাই নয়, চন্দ্রভাগার জলের উপরও একতরফা নিয়ন্ত্রণ জারি রাখে ভারত। প্রথমে জম্মু ও কাশ্মীরের বাগলিহার ও সালার বাঁধ থেকে জল ছাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। যার জেরে পাকিস্তান ভূখণ্ডে শুকিয়ে যায় চন্দ্রভাগা। হেঁটে পারাপার করতে থাকেন বাসিন্দারা। এরপর গত ৬ মে আচমকাই ২৮ হাজার কিউসেক জল ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে পাকিস্তানের শিয়ালকোট জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। বাধ্য হয়ে বন্যার সতর্কতা জারি করে পাক প্রশাসন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। আতঙ্কে নদীর তীরের বাসিন্দারা অন্যত্র চলে যান। যদিও এনিয়ে ভারতের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে চন্দ্রভাগার জল বন্ধ হওয়ায় সঙ্কটে পাকিস্তানের সেনা শহর
রাওয়ালপিণ্ডি। প্রবল জল সঙ্কটের সম্মুখীন সেখানকার বাসিন্দারা। যার জেরে
জরুরি অবস্থা জারি করেছে পাক পাঞ্জাব প্রদেশের সরকার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম
জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চন্দ্রভাগার জলস্তর ২২ ফুট থেকে কমে হয়েছে ১৫ ফুট।
প্রতিদিন
শহরবাসীর জন্য ৫০ মিলিয়ন গ্যালন জলের প্রয়োজন। এখন ৩০ মিলিয়ন গ্যালনের
বেশি জল পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু রাওয়ালপিণ্ডি নয়, পাঞ্জাবের ছোটবড় মিলিয়ে
২৪টি শহরে জল সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলে খরা পরিস্থিতি। এবছর
আবার ওই অঞ্চলে কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এক্ষেত্রে
সেচের জন্য জল না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ফসল উৎপাদনও। অবিলম্বে ব্যবস্থা না
নিলে জলসঙ্কট প্রবলভাবে দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে একাধিক আরও সমস্যার
মুখোমুখি হবে পুরো এলাকা, এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পাক বিশেষজ্ঞরা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন