কলকাতা: দমদম সংশোধনাগারে যে পাক জঙ্গিরা বন্দি অবস্থায় রয়েছে, তাদের উপর নজরদারি বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। জেলের মধ্যে বসেই তারা অনলাইনে নতুন সদস্য নিয়োগ করছে ও দাওয়াত দিচ্ছে বলে অভিযোগ। এমন চার পাক বন্দিকে চিহ্নিত করে তাদের চলাফেরা ও গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। তারা ইতিমধ্যেই জঙ্গি গোষ্ঠীতে কাকে কাকে নিয়োগ করেছে, সে ব্যাপার খোঁজ নিচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা।
অপারেশনে সিন্দুরে পাকিস্তানের মুরিতকে ও
বাওয়ালপুরে লস্কর ও জয়েশের জঙ্গি ঘাঁটি উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
একশো জনের বেশি জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। ভারতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই দুই
জঙ্গি সংগঠন। মৌলানা মাসুদ আজাহার বা হাফিজ সঈদের ডান হাতরা এদেশে দুই
জঙ্গি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নিয়মিত নির্দেশ পাঠাচ্ছে। স্লিপার সেলের
মাধ্যমে নেটওয়ার্ক বাড়াতে সক্রিয় তারা। রাজ্যেও লস্করের স্লিপার সেল বেশ
কয়েকটি জেলায় সক্রিয়। বিভিন্ন সময় কলকাতা বা রাজ্য পুলিসের হাতে লস্কর
জঙ্গি ধরা পড়েছে। তার মধ্যে পাকিস্তানি নাগরিকও রয়েছে। জেল সূত্রে খবর,
রাজ্যে দশজন পাকিস্তানি লস্কর জঙ্গি রয়েছে। যাদের মধ্যে পাঁচজন দমদম
সংশোধনাগারে বন্দি। তাদের প্রত্যেকেই সাজা খাটছে।
জঙ্গিদের ক্যাম্প
উড়িয়ে দেওয়ার পর দেশে এই সংগঠনের কোমর ভাঙতে সক্রিয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
সাজাপ্রাপ্ত লস্কর জঙ্গিদের কাজকর্ম তাঁদের নজরে। গোয়েন্দা আধিকারিকদের কাছ
আসা তথ্য অনুযায়ী, দমদম সংশোধনাগারে বন্দি পাক জঙ্গিরা বেশ কিছুদিন ধরেই
সক্রিয়। অভিযোগ, তারা সেলে মোবাইল ব্যবহার করছে। যাতে ইন্টারনেট পর্যন্ত
থাকছে। জেলে বসেই লস্করের সংগঠনকে নতুন করে সাজাতে চাইছে। বিভিন্ন জেলায়
স্লিপার সেল তৈরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, দমদম
জেলে বন্দি পাক জঙ্গিরা ভুয়ো নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক প্রোফাইল
খুলেছে। সেখানে জেহাদি ভাবধারা প্রচার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তরুণদের মগজ
ধোলাই করে অনলাইনের মাধ্যমে নিয়োগ করছে। নতুন সদস্যরা বেশিরভাগই দুই ২৪
পরগনা, বীরভূম মালদহ, মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা।
অনলাইনে চলছে দাওয়াত দেওয়া।
এমনকী জেহাদি প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেল বসেই তারা
নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া লস্কর সহ অন্যান্য জঙ্গি নেতাদের ফোন নম্বর জোগাড় করে
ফোন করছে। জেলায় জেলায় দাওয়াতের আয়োজন করতে বলা হচ্ছে তাদের।
জেল বন্দি
এই লস্কর জঙ্গিদের মূল লক্ষ্য হল, বিভিন্ন জেলায় স্লিপার সেল তৈরি করা।
পাশাপাশি নাশকতা ঘটানোও লক্ষ্য। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, জেলখানায় হামলা চালিয়ে
এই জঙ্গিদের বের করার চেষ্টা চালানো হতে পারে। নতুন সদস্যদেরই এই কাজের
দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কোন কোন লস্কর জঙ্গির নাম এই তালিকায় রয়েছে, তা
হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। ফোন যাচ্ছে কাদের কাছে, এখন তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে
বলে খবর। কিন্তু জেলের মধ্যে কীভাবে তারা ফোন পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যদি কারাদপ্তরের এক কর্তার কথায়, অপারেশন সিন্দুরের পর তাঁরা যথেষ্ট সতর্ক।
পাক লস্কর জঙ্গিদের কাজকর্মের উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। ঠিক এমনই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বাংলা সংবাদপত্র ‘বর্তমান’-এ৷
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন