কিয়েভ: যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে শীঘ্রই আলোচনায় বসবে রাশিয়া ও ইউক্রেন। সোমবার দুই দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার পরেই এই বার্তা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সত্যিই কি দ্রুত বন্ধ হবে তিন বছরব্যাপী এই যুদ্ধ? আলোচনার গতিপ্রকৃতি দেখে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমাধানসূত্র মেলেনি। তাই ট্রাম্পের আশ্বাসেও কাজ হচ্ছে না।
সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর পরোক্ষে ভোলোদামির জেলেনস্কিকে বার্তা দেন ভ্লাদিমির পুতিন। জানান, শান্তি ফেরানোর জন্য নমনীয়তা দেখানো দরকার। মঙ্গলবার এবিষয়ে পুতিনকেই ফের কাঠগড়ায় তুললেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। টেলিগ্রামে তিনি লেখেন, ‘রাশিয়া আরও সময় নিতে চাইছে। বোঝাই যাচ্ছে যে তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।’ তাই ভবিষ্যতে মস্কোর উপর আরও নিষেধাজ্ঞা চাপানোর হুঁশিয়ারিও দেন জেলেনস্কি। লেখেন, ‘রাশিয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করতে বাকি বন্ধু রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে কথা বলছি। আশা করছি তাতে ওদের ব্যবহার বদলাবে।’
সম্প্রতি রাশিয়াকে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল কিয়েভ। ক্রেমলিন তা পত্রপাঠ খারিজ করে দেয়। পরে পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার বার্তা দেন জেলেনস্কি। তাতেও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এদিকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুদ্ধ থামানোর একাধিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। দু’পক্ষের বেশ কয়েকবার আলোচনা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সেই কাজে সফল হননি। সোমবার ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে আলোচনা ‘খুব ভালো’ হয়েছে। তাতে অবশ্য সন্তুষ্ট হতে পারছে না ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলি। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধ থামাতে ইচ্ছুক নন পুতিন। এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হ্যানো পেভকুর বলেন, ‘পুতিন কখনই তাঁর অবস্থান বদল করনেনি। রাশিয়া যুদ্ধ শেষ করতে চায় না।’
গত শুক্রবার ইস্তানবুলে আলোচনায় বসেছিলেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। সেখানে যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে রাজি হয় মস্কো-কিয়েভ। কিন্তু যুদ্ধ শেষের কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
.jpeg)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন