নয়াদিল্লি: বিশ্ব কূটনীতির আকাশে নতুন অক্ষের নাম আরআইসি? অর্থাৎ রাশিয়া-ইন্ডিয়া-চীন! এরকমই সম্ভাবনা জোরদার হতে শুরু করেছে। আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই তথ্য দিয়েছেন স্বয়ং রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তিনি বলেছেন, ‘এই তিন রাষ্ট্রের মৈত্রী আপাতত পরবর্তী চমক।’ রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীর এই ঘোষণা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বের সবথেকে চমকপ্রদ নতুন পাওয়ার সেন্টারের জন্ম হবে অদূর ভবিষ্যতে। মাথা তুলবে নয়া মহাশক্তি।
এই মিত্রতার বন্ধন এবং সম্মিলিত জোটের চিত্র শেষবার দেখা গিয়েছে পাঁচের দশকে। ভারত, রাশিয়া, চীন— তিন রাষ্ট্রের মৈত্রীর বার্তা আমেরিকাকে যথেষ্ট ক্রুদ্ধ করেছিল সেই সময়কালে। ওয়াশিংটনের অস্বস্তির কারণ ছিল, মাও সে তুং, নিকিতা ক্রুশ্চেভ এবং জওহরলাল নেহরুর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা। যদিও চীনের সঙ্গে মৈত্রী ভারতের বজায় থাকেনি। ১৯৫৯ সালের সীমান্ত সমস্যা এবং দলাই লামার ভারতে আগমন— এই যৌথ কারণে চিড় ধরে সম্পর্কে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে জওহরলাল নেহরুর প্রিয় স্লোগান ‘হিন্দি চীনি ভাই ভাই’ ধূলিসাৎ হয়! শুরু হয় ভারত ও চীনের শীতল সম্পর্কের যুগ। যদিও সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের মৈত্রী প্রায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্তেই পর্যবসিত। বিশ্ব কূটনীতির অসংখ্য শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায় ইন্দো-রুশ ভাই ভাই থেকেই গিয়েছে। এমনকী হাল আমলেও চীনের সাপ্লাই করা পাকিস্তানের মিসাইল হানা থেকে ভারতকে পাহাড়ের মতো রক্ষা করে গিয়েছে রাশিয়ার দেওয়া এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।
আবার ৬৬ বছর পর পুরনো মৈত্রী কি নতুন অক্ষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে? অর্থাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত এবং আস্থাহীন সক্রিয়তার জেরে ভারত-রাশিয়া-চীনের মধ্যে একটি নতুন জোট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে কি এই ত্রিশক্তি হবে নয়া বিশ্বশক্তি? এই সম্ভাবনা কোনও জল্পনার অঙ্গ নয়। কারণ, স্বয়ং রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এই সম্ভাবনার কথা ঘোষণা করেছেন। উরাল পর্বতমালা ঘেঁষা পার্ম শহরে লাভরভ আন্তর্জাতিক সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল কনফারেন্সে বলেছেন, ‘আগামী দিনে সব কিছু ঠিক থাকলে ভারত, চীন, রাশিয়া একটি নতুন অক্ষ তৈরি করতে চলেছে।’ তিনি বলেন, ‘ভারত এবং চীনের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ জিইয়ে রাখার জন্য আদতে ন্যাটো দায়ী। ভারতকে চীন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চক্রান্ত এটা। কিন্তু সেটা এখন আর চলবে না।
সীমান্ত সমস্যা ও জটিলতা নিয়ে ভারত ও চীন ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছে। সমাধানসূত্রও পাওয়া গিয়েছে। রাশিয়া পুরোদস্তুর ভারত ও চীনের সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী। ভারত আমাদের বন্ধু। চীনও। এই তিন সুপার পাওয়ার এক জায়গায় হলে সেটা যে বিশ্বশক্তি হবে, তাতে সন্দেহ নেই। সেদিকেই কিন্তু অগ্রসর হচ্ছে নতুন বিশ্ব কূটনীতির সমীকরণ। নতুন অক্ষের নামও আমরা ঠিক করেছি। আরআইসি।’ লাভরভ বলেছেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি যে, আপাতত আমরা এই লক্ষ্য পূরণেই সবথেকে দ্রুত এগিয়ে চলেছি। বহু বছর আগে এই মৈত্রী ছিল। এমনকী রাশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইয়েভজেনি প্রিমাকভ প্রথম এর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তারপর থেকে এ পর্যন্ত ২০ বারের বেশি বৈঠক হয়েছে তিন পক্ষের। এই লক্ষ্যপূরণে। শুধুই বিদেশনীতি সংক্রান্ত বৈঠক নয়। আমরা তিন রাষ্ট্র কথা বলছি অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিল্প নিয়েও। সুতরাং আমি এটুকুই বলতে পারি যে, সময় এসে গিয়েছে। আরআইসি অক্ষ আবার পুনর্জাগ্রত হচ্ছে!’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন