নয়াদিল্লি: অবশেষে মুখ খুললেন নরেন্দ্র মোদি। সোমবার রাত ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ এবং পাকিস্তানকে তাঁর কঠোর হুমকি, ‘পরমাণু অস্ত্র দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করবেন না। সহ্য করব না। এরপর পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ব্ল্যাকমেল করলে আমরাও বুঝে নেব।’ হঠাৎ যুদ্ধবিরতি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অতি সক্রিয়তা, মধ্যস্থতার দাবি। যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন। এবং সোমবার ভারত-পাকিস্তান সেনাস্তরে বৈঠক। একের পর এক ঘটনাক্রমে সব নজরই থমকে গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে।
আগ্রাসনের শিখরে পৌঁছলেন মোদি। এতটুকু রেয়াত করলেন না সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তানকে। সাফ বললেন, ‘আপাতত আমরা প্রত্যাঘাতকে সংযত রেখেছি। কিন্তু মনে রাখবেন, পাকিস্তানের গতিবিধির উপর আমাদের নজর আছে। তাবৎ সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনী তৈরি। প্রয়োজন হলে আবার মারব। অপারেশন সিন্দুর সন্ত্রাস দমনে এক নতুন মাপকাঠি নির্মাণ করেছে। নিউ নর্মাল। কারণ এবার ভারতে সন্ত্রাস হলেই সঙ্গে সঙ্গে তার যোগ্য জবাব দেব। যেখানেই সন্ত্রাসের শিকড়, সেখানেই আক্রমণ করব।’ এখানেই শেষ নয়। মোদি পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘এখনও সময় আছে। পাকিস্তানের সেনা ও সরকার যেভাবে সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, একদিন পাকিস্তানকেও এই সন্ত্রাস ধ্বংস করে দেবে। পাকিস্তান যদি বাঁচতে চায়, নিজেরাই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করুক।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার কাশ্মীর প্রসঙ্গ টেনেছিলেন। বলেছিলেন,
‘এরপর আমি চাইব ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাশ্মীর নিয়ে কথা বলতে। সমাধান
করতে।’ মোদি কিন্তু স্পষ্ট হুঁশিয়ারির সুরে বললেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক মহলকে
স্পষ্ট জানাচ্ছি, পাকিস্তানের সঙ্গে কথা হলে, সেটা সন্ত্রাস নিয়েই হবে।
পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করতে হলে একমাত্র এজেন্ডা হবে অধিকৃত কাশ্মীর।
অন্য কিছু নয়।’ যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে মোদি একবারও ‘আমেরিকা’ কিংবা
‘মধ্যস্থতা’ শব্দের উল্লেখ করলেন না ঠিকই, কিন্তু এভাবে বার্তা পৌঁছে দিলেন
ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই। বুঝিয়ে দিলেন, কাশ্মীর নিয়ে কথা নয়। তিনি আরও
বোঝালেন, সংঘাতে জয়ী হয়েছে ভারতই। মোদি বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী অসীম
সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের সাহসকে, পরাক্রমকে কুর্নিশ জানাচ্ছি। ২২
এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদীরা যে বর্বরতা দেখিয়েছে, তা চরম নিন্দনীয়।
ধর্ম জেনে পরিবার ও সন্তানের সামনে হত্যার থেকে বেশি নৃশংসতা কিছু হতে পারে
না। দেশের সদ্ভাব ধ্বংস করার এক চক্রান্ত হয়েছিল সেদিন। কিন্তু দেশবাসীর
ঐক্য তা প্রতিহত করেছে।’
মোদির বার্তা, ‘মঙ্গলবার মধ্যরাতে গোটা দুনিয়া
দেখেছে যে, আমাদের প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা কীভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। ভারতীয়
সেনা পাকিস্তানে থাকা জঙ্গি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ধ্বংস করেছে। সন্ত্রাসবাদীরা
দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি, এরকম এক আক্রমণ আসতে পারে তাদের উপর। যখন পাকিস্তানে
সন্ত্রাসের আস্তানায় ভারতের মিসাইল-ড্রোন হানা দিয়েছে, শুধু সন্ত্রাসের
ইমারত নয়, তাদের আত্মবিশ্বাসও ধ্বংস হয়েছে। শতাধিক জঙ্গি ও জঙ্গিদের
কমান্ডার নিহত হয়েছে। বিগত কয়েক দশক ধরে এদের অনেকেই পাকিস্তানে অবাধে ঘুরে
বেরিয়েছে। আর সেই জঙ্গিদের শেষকৃত্যে তাবড় পাক অফিসারদের দেখা গিয়েছে।
পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবাদকে লালন পালন করে, এর থেকে বড় প্রমাণ আর কি হতে
পারে?’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন