কলকাতা: আক্ষরিক অর্থে তৃণমূলের কাছে মাত্র দু’টি কেন্দ্রের উপ নির্বাচন। নদীয়ার কালীগঞ্জ এবং কেরলের নীলাম্বুর। এই লড়াইয়ে পিছনে রয়েছে সুক্ষ্ম রাজনীতির অঙ্ক। সেই অঙ্ক কষেই ভোটযুদ্ধের ময়দানে নামছে তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গের কালীগঞ্জ বিধানসভা আসন তৃণমূলের হাতেই ছিল। উপ নির্বাচনেও ফের সেই আসন তৃণমূলের হাতেই থাকবে বলে প্রত্যয়ী সুর রাজ্যের শাসক দলের নেতাদের কণ্ঠে। অন্যদিকে কেরলের নীলাম্বুর আসনের উপ নির্বাচনে এবার প্রার্থী দিয়ে বামশাসিত রাজ্যে পা রাখার তোড়জোড় শুরু জোড়াফুল ব্রিগেডের।
আগামী ১৯ জুন যেসব কেন্দ্রে উপ নির্বাচন হবে, সেই তালিকায় দু’টি কেন্দ্র নিয়ে রাজনীতির অঙ্ক কষছে তৃণমূল। বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদের প্রয়াণে নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ বিধানসভা আসনে উপ নির্বাচন হবে। এখানে তৃণমূলের লক্ষ্য, উপ নির্বাচন হলেও যত বেশি সম্ভব ভোট নিজেদের বাক্সে আনা। আসলে উপ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিকে বড়সড় ধাক্কা দেওয়ার কৌশল তৃণমূলের। সেইসঙ্গে লক্ষ্য নেতা-কর্মীদের মনোবল আরও চাঙ্গা করা। সাধারণত উপ নির্বাচনে মানুষের ভোট প্রদানের হার স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে। কিন্তু কালীগঞ্জের মানুষ যাতে ভোটের দিনে বুথমুখো হন, তাই নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালাবে তৃণমূল।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ৫৩.৩৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন নাসিরুদ্দিন আহমেদ। বিজেপির প্রার্থী পেয়েছিলেন ৩০.৯১ শতাংশ ভোট। ফলে ব্যবধানটা ছিল অনেকটাই। এখানেই তৃণমূলের ব্যাখ্যা, শত চেষ্টা করেও এই কেন্দ্রের উপ নির্বাচনে জিততে পারবে না বিজেপি। তাই প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সবদিক বিচার-বিশ্লেষণ করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রাথমিকভাবে তৃণমূলের সম্ভাব্য দুই প্রার্থীর নাম সামনে এসেছে। মূলত চর্চায় রয়েছেন আলিফা আহমেদ ও তারান্নুম সুলতানা মীর। এঁদের মধ্যে কেউ প্রার্থী হন কি না, সেটা সময়ই বলবে।
অন্যদিকে তৃণমূলের নজরে রয়েছে কেরল রাজ্যের নীলাম্বুর আসনটি। এই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন পি ভি আনভার। দু’বার লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের বিধায়ক ছিলেন তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আনভার যোগ দেন তৃণমূলে। দলে তাঁকে স্বাগত জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিধায়ক পদে ইস্তফা দেওয়ায় সেখানে উপ নির্বাচন হতে চলেছে। আনভার এখন কেরল তৃণমূলের আহ্বায়ক পদে আছেন। তাঁকে সামনে রেখেই কেরলে সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা তৃণমূলের।
দলীয় সূত্রে খবর, এই উপ নির্বাচনে প্রার্থী দেবে তৃণমূল। নেতৃত্বের ব্যাখ্যা, জাতীয় দলের তকমা ফিরে পেতে অন্য রাজ্যে তৃণমূলের ৬ শতাংশ ভোট প্রয়োজন। সেই কারণে অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরার দিকে আগেই তৃণমূল নজর দিয়েছে। এবার লক্ষ্য কেরলে জোড়াফুল ফোটানো। তাই নীলাম্বুর কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়ে তৃণমূলের বাক্সে ভোট আনার বিষয়ে তোড়জোড় শুরু জোড়াফুল শিবিরের নেতাদের। এর আগে লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের বিধায়ক থাকার সময় আনভার ভোট পেয়েছিলেন ৪৬ শতাংশেরও বেশি। ফলে এই কেন্দ্র থেকে জন প্রতিনিধি নির্বাচন করে বাম শাসিত কেরলে খাতা খোলার চেষ্টায় রয়েছে জোড়াফুল ব্রিগেড।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন