কলকাতা: ১৯৮৯ সাল। পাকিস্তানের মাটিতে মাস্টার ব্লাস্টারের অভিষেক। নাচতে নাচতে বল করছেন আব্দুল কাদির। পাক স্পিনারকে হেলায় স্টেপ আউট করে শচীনের ছক্কা হাঁকানোর ছবি এখনও ক্রিকেটপ্রেমীর স্মৃতিতে টাটকা। সোমবার রাতে সোয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে বৈভবের তাণ্ডব দেখে অনেকেরই মনে পড়ছিল ১৬ বছরের শচীনের কথা। মাত্র ১৪ বছর ৩২ দিনের বৈভবের ইনিংসও এক টুকরো মাস্টার ক্লাস। ম্যাচের পর তার মন্তব্য, ‘সত্যিই দারুণ অনুভূতি। তবে আমি শুধু নিজের কাজটা করেছি।’ অহেতুক আবেগ নেই। পরিণত ইনিংসের মতো গলাতেও প্রবল আত্মবিশ্বাস।
বৈভব
সূর্যবংশী আনকাট হিরে। ওকে আগলে রেখেছে রাজস্থান টিম ম্যানেজমেন্ট। জাতীয়
ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভিভিএস লক্ষ্ণণ রত্ন চিলতে ভুল করেননি। কার্যত তাঁর
সুপারিশেই বৈভবকে তুলে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। কোচ দ্রাবিড়ের বডি
ল্যাঙ্গুয়েজেই স্পষ্ট কতটা তৃপ্ত তিনি। অবসরে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে পা
ভেঙেছেন। উত্তেজনায় চেয়ার ছেড়ে প্রায় লাফিয়ে উঠেছিলেন দ্য ওয়াল। এরপর
ড্রেসিং-রুমে জড়িয়ে ধরেন বৈভবকে। রাজস্থানের ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোরও
উচ্ছ্বসিত। প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটারের মন্তব্য, ‘এই বয়সে এত পাওয়ারফুল
ব্যাটিং সত্যিই অকল্পনীয়।’
আইপিএলে কীর্তি গড়ার রাতেই আরও বড় পুরস্কার
পেয়েছিল বৈভব। সোশ্যাল সাইটে অভিনন্দন জানান স্বয়ং শচীন তেন্ডুলকর। ১৯৮৩’র
বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য শ্রীকান্তও মোহিত। তাঁর মন্তব্য, ‘ওর বয়সটা
ভাবুন। এইসময় বাচ্চারা আইসক্রিম খেতে ভালোবাসে। বৈভব সেখানে বাঘা বাঘা
বোলারদের বল গ্যালারিতে পাঠাচ্ছে। ও ভবিষ্যতের তারকা।’ যুবরাজ সিংয়ের
বার্তা-‘নামটা মাথায় গেঁথে নিন। কোনও প্রশংসা যথেষ্ট নয়। ওকে অভিনন্দন।’
হায়দরাবাদের মহম্মদ সামিও প্রশংসায় ভরিয়েছেন বৈভবকে। তাঁর বক্তব্য,
‘অসাধারণ প্রতিভা। মাত্র ১৪ বছরেই এমন ইনিংস কল্পনাও করা যায়না।’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন