কলকাতা: বেশিদিন বাকি নেই! দু’টি ডেঙ্গু ভ্যাকসিন দেশবাসীর হাতের নাগালে আসতে পারে আর এক বছরের মধ্যেই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দু’টি ভ্যাকসিনই ডেঙ্গু ১ থেকে ৪—চারটি সেরোটাইপের সংক্রমণেই কাজ করবে। নিমার্তা সংস্থা এবং সরকারি সূত্রে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
এর মধ্যে যেটি দেশীয় টিকা, সেটি তৈরি করছে
কেন্দ্রীয় শীর্ষ চিকিৎসাবিজ্ঞান সংস্থা আইসিএমআর এবং ‘প্যানসিয়া বায়োটিক’
নামে একটি সংস্থা। ‘ডেঙ্গু অল’ নামে এই টিকার তৃতীয় তথা অন্তিম পর্যায়ের
ট্রায়াল প্রায় শেষের দিকে। দেশের ১৮টি রাজ্যের ১০ হাজার ৩৩৫ জন মানুষের
মধ্যে এই টিকার ট্রায়াল চলছে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হয়েছিল
যথাক্রমে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে। দুই ক্ষেত্রেই মিলেছিল নজরকাড়া সাফল্য।
‘কিউডেঙ্গা’ নামে দ্বিতীয় টিকাটি তৈরি করছে জাপানি সংস্থা ‘টাকেডা’।
হায়দরাবাদের সংস্থা বায়োলজিক্যাল ই’র সঙ্গে যৌথভাবে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’
প্রজেক্টে তারা টিকাটি বাজারে আনতে চলেছে। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালেই বিশ্বে
অনুমোদন পেয়েছিল ‘কিউডেঙ্গা’। এবার তারা ভারতে এই টিকা আনছে। সূত্রের খবর,
বছরে প্রায় ৫ কোটি ডোজ টাকেডার টিকা তৈরি করার কথা বায়োলজিক্যাল ই’র।
প্রসঙ্গত, দু’টি ডোজে দেওয়া হবে এই ভ্যাকসিন। ব্যবধান তিন মাসের। হাসপাতালে
ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে এই টিকায় এখনও পর্যন্ত ৮০-৮৫ শতাংশ সাফল্য মিলেছে।
প্রসঙ্গত, পৃথিবীজুড়ে এখনও আতঙ্ক-উদ্বেগের আর এক নাম ডেঙ্গু। তার
প্রধান কারণ এই মশাবাহিত রোগের কোনও সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই। রোগীর যেমন যেমন
উপসর্গ দেখা যাবে, তেমন তেমন চিকিৎসা হয়। চিকিৎসকমহল সূত্রে জানা গিয়েছে,
প্রতি বছর পৃথিবীতে কমবেশি ৫০ লক্ষ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। শুধুমাত্র
পশ্চিমবঙ্গেই গত তিন বছরে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। ডেঙ্গু
টিকা তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল চারটি আলাদা আলাদা সেরোটাইপের
ডেঙ্গুর জন্য একটি টিকা তৈরি করা। বাংলা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা
যায়, কোনও বছর মানুষ ডেঙ্গু ১-এ আক্রান্ত হয়েছেন তো কোথাও ডেঙ্গু ২, ৩ বা ৪
সেরোটাইপে আক্রান্ত। একই রাজ্যের মধ্যে এলাকাভেদে আলাদা ধরনের ডেঙ্গুর
প্রাদুর্ভাবও লক্ষ্য করা যায় হামেশাই। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর টিকা তৈরি
করতে গিয়ে বারবার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে বিজ্ঞানীদের। এখনও বহু
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যেভাবে ডেঙ্গু বারবার চরিত্র বদলাচ্ছে,
তাতে টিকাকরণের মাধ্যমে রোগদমনে সফল হওয়া সহজ নয়। এফডিএ অনুমোদন পাওয়া
ডেনভ্যাক্সিয়া ডেঙ্গু টিকা বাজারে ছেড়েও শেষে তুলে দেওয়া হয়।
যদিও বিজ্ঞানী মহলের একাংশের দাবি, রোগ-জীবাণুর সঙ্গে এই যুদ্ধ চলতে থাকবে। মানুষ সহজে হার মানার পাত্র নয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন