কলকাতা: গাড়ি-বাড়ি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ঋণ গ্রহণের অঙ্ক বাড়লেও তাতে সন্তুষ্ট নয় ব্যাঙ্ক। কারণ, একবছর আগে ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার হার যে মাত্রায় বেড়েছিল, প্রায় কোনও দিক থেকেই সেই বৃদ্ধির হারকে ছোঁয়া যায়নি এবছর। ২০২৫ সালের মার্চ মাসের ঋণের হিসেবকে সামনে এনে এমনই জানিয়েছে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা কেয়ারএজ। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্যকেই এই বিষয়ে সামনে এনেছে তারা।
কী বলা হয়েছে রিপোর্টে? শুরু করা যাক গৃহঋণ দিয়েই। ২৫
সালের মার্চে ব্যাঙ্কগুলির তরফে দেশে গৃহঋণ প্রদান করা হয় প্রায় ৩০ লক্ষ ১০
হাজার কোটি টাকার। ২০২৪ সালের মার্চের তুলনায় ঋণ প্রদান বৃদ্ধির হার ১০.৭
শতাংশ। অথচ রিপোর্ট বলছে, ২০২৩ সালের মার্চের তুলনায় গতবছর মার্চে ৩৬.৫
শতাংশ বেশি গৃহঋণ দেওয়া হয়েছিল। গাড়ি কেনার জন্য ঋণের ক্ষেত্রেও একই ছবি
সামনে এসেছে। গত মার্চে দেশে গাড়ি ঋণ প্রদান করা হয়েছে ৬ লক্ষ ২০ হাজার
কোটি টাকার। একবছরে বৃদ্ধির হার ৮.৬ শতাংশ। অথচ একবছর আগে সেই বৃদ্ধির হার
ছিল ১৭.৬ শতাংশ।
বৃদ্ধির হারের নিরিখে অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছে ক্রেডিট
কার্ড মারফত নেওয়া ঋণও। ২০২৫ সালের মার্চে ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ছিল ২
লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা। একবছরে ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ১০.৬ শতাংশ। অথচ একবছর
আগে সেই হার ছিল ২৫.৬ শতাংশ। দেশে গত মার্চে শিক্ষাঋণ দেওয়া হয়েছে ১ লক্ষ
৪০ হাজার কোটি টাকার। একবছরে তা বেড়েছে ১৫.১ শতাংশ হারে। অথচ একবছর আগে
সেই এডুকেশন লোনের বৃদ্ধির হার ছিল ২৩.৭ শতাংশ হারে। তবে এই ঋণগুলির
কিছুটা উল্টো পথে হেঁটেছে গোল্ড লোন নেওয়ার হিসেব। গত মার্চে দেশে তা
দেওয়া হয়েছে ২ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকার। একবছরে এই খাতে বৃদ্ধির হার
১০৩.৫ শতাংশ! অথচ ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালের মার্চের তুলনা টানলে, সেবার
বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১৪.৮ শতাংশ। সোনার দাম গত একবছরে এক ধাক্কায়
অনেকটা বেড়ে যাওয়ার কারণেই ঋণের অঙ্ক বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
সংশ্লিষ্ট মহলের মত এটাই।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন