জন আব্রাহামের ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ সিনেমার সৌজন্যে দেশবাসীর কাছে এখন পরিচিত নাম জেপি সিং। এই ভারতীয় কূটনীতিক ২০১৭ সালে এক বিরাট কাজ করেছিলেন। যা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। ভারতীয় কন্যা উজমা আহমেদকে পাকিস্তান থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। যার জন্য নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল জেপি সিংকে। উজমা ভারতের নাগরিক। অনলাইনে এক পাকিস্তানি যুবকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তাঁর প্রেমে পড়ে যান উজমা। ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে যান উজমা। তারপরেই শুরু হয় তাঁর খারাপ সময়। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে উজমাকে জোর করে বিয়ে করেন ওই পাক যুবক। যদিও সে বিবাহিত ছিল। তারপরেই উজমার উপর শুরু হয় শারীরিক অত্যাচার।
বুদ্ধি করে একদিন পাকিস্তানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে চলে যান উজমা। সেখানেই গোটা বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন তৎকালীন পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় দূত জেপি সিংকে। তিনিই পাকিস্তানে থেকে সবরকম পরিস্থিতির বিরুদ্ধে গিয়ে উজমাকে নিজের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। সেই জেপি সিংই এবার পাকিস্তানকে বিশেষ বার্তা দিলেন। বর্তমানে ইজরায়েলে নিযুক্ত ভারতীয় দূত হিসেবে কর্মরত জেপি সিং। গতকাল, সোমবার এক ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিন্দুর শেষ হয়ে যায়নি। আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে ফের শুরু করা হতে পারে।’
তিনি আরও জানান, ‘ইসলামাবাদের উচিত হাফিজ সইদ, সাজিদ মীর ও জাকিউর রেহমান লখভির মতো জঙ্গিদের ভারতের হাতে তুলে দেওয়া। ঠিক যেভাবে তাহাউর রানাকে আমেরিকা তুলে দিয়েছে নয়াদিল্লির হাতে। পহেলগাঁওতে জঙ্গিরা পর্যটকদের ধর্ম জিজ্ঞাসা করে খুন করেছে। তাই জঙ্গিদের দমনে শুরু হয়েছে অপারেশন সিন্দুর। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাস দমনের প্রক্রিয়া চলবে। যেখানেই জঙ্গিরা লুকিয়ে থাকুক খুঁজে খুঁজে তাদের মারা হবে। এটাই ভারতের নিউ নর্ম্যাল। তাই অপারেশন সিন্দুর এখনই শেষ হয়ে যায়নি। যুদ্ধবিরতি চলছে তাই আমরা স্থগিত রেখেছি সেই প্রক্রিয়া। আমরা সিন্ধু দিয়ে জল ছাড়ি আর পাকিস্তান আমাদের দেশে জঙ্গি পাঠায়। সেটা চলতে দেওয়া যাবে না। পাকিস্তানকে বারবার আমরা তথ্য দিয়েছে, ইনপুট দিয়েছি। আমেরিকাও সবকিছু জানিয়েছে। তারপরেও হাফিজ সইদের মতো জঙ্গিরা পাকিস্তানে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদি আমেরিকা তাহাউর রানাকে আমাদের হাতে তুলে দিতে পারে। তাহলে পাকিস্তান কেন হাফিজ সইদ, সাজিদ মীর ও জাকিউর রেহমান লখভির মতো জঙ্গিদের ভারতের হাতে তুলে দিতে পারছে না? ওদের আমাদের হাতে তুলে দিলেই তো অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন