নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পরই জঙ্গিদের মদতদাতা পাকিস্তানকে সবক শেখানোর কৌশল নিয়েছে ভারত। এজন্য সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এবার চন্দ্রভাগার জল আটকে দিল ভারত। জম্মু ও কাশ্মীরের রামবান জেলায় চন্দ্রভাগার উপর রয়েছে বাগলিহার বাঁধ। সেখান দিয়ে নদীর জল পাকিস্তানের দিয়ে বয়ে যায়। এবার এই বাঁধ বন্ধ করে দেওয়া হল। এখানেই শেষ নয়, বিতস্তা নদীর ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নিতে চলেছে মোদি সরকার। খুব শীঘ্রই ওই নদীর কিষানগঙ্গা বাঁধ আটকে দেওয়া হবে। সূত্র মারফত এমনই খবর মিলেছে।
মূলত সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তার জল
পাকিস্তানের দিকে বয়ে যায়। বাগলিহার ও কিষানগঙ্গা বাঁধ দিয়ে পশ্চিমমুখী
জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে ভারত। এরমধ্যে চুক্তি বাতিল করে ভারত জল আটকালে বা
ছাড়লে, দু’টি ক্ষেত্রেই বিপদে পড়বে পাকিস্তান। জানা গিয়েছে, জম্মুর
রামবানের বাগলিহার ও উত্তর কাশ্মীরের কিষানগঙ্গা দু’টি হাইড্রোলিক বাঁধ।
এর সাহায্যে ভারত সহজেই জল ছাড়ার সময় ও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই বিতস্তার জল ছেড়েছিল ভারত। তাতে সমস্যায় পড়েছিল
পাকিস্তান। পরিস্থিতি সামাল দিতে নাকানিচোবানি খেতে হয়েছিল তাদের।
পাকিস্তানের অভিযোগ, কিছু না জানিয়েই জল ছেড়েছে ভারত। তাতেই সমস্যা তৈরি
হয়েছে। যদিও ভারত সাফ জানায়, নিয়মমাফিকই জল ছাড়া হয়েছে।
বাগলিহার বাঁধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত চলছে। এব্যাপার অতীতে একাধিকবার বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতাও চেয়েছে ইসলামাবাদ। শাহবাজ শরিফের দেশের আপত্তি রয়েছে কিষানগঙ্গা বাঁধ নিয়েও। মূলত বিতস্তার উপনদী নীলুমের প্রবাহ নিয়েই আইনি ও কূটনৈতিক টানপোড়েন রয়েছে। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে। তার ফলাফল অনুভব করেই ঘুম ছুটেছে পাকিস্তানের। তাই কখনও পিপিপি নেতা বিলাবল ভুট্টো, কখনও আবার দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুমকি দিচ্ছেন। তাতে যে ভারত বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিচ্ছে না, সাম্প্রতিক পদক্ষেপ তারই ইঙ্গিত বলে মত তথ্যাভিজ্ঞ মহলের।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন