আসানসোল: ‘অর্জুন সিংয়ের লালার সাথে যোগাযোগ আছে। নিয়মিত কয়লার টাকা নেয়’। নিজের দলের দাপুটের নেতার বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি আরও বলেন, দুর্গাপুরের রাজু( রাজু ঝাঁ) যে আমাদের পার্টিতে এসেছিল। যাঁকে শ্যুটআউট করে মারা হল তিনিও তো অর্জুনের চ্যালা ছিলেন। উনিই পার্টিতে জয়েন করিয়েছিলেন। রাজু ঝার বিরুদ্ধে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় কয়লা লুটের ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে। বিজেপি নেতার সঙ্গে কয়লা কারবারিদের ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ্যে এনেছেন দলেরই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। যা নিয়ে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।
দিলীপ ঘোষের
মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিতে নেতারা মুখ লুকোচ্ছেন। অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের
মন্তব্যকে সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএমের কর্মী
সমর্থকরা। যা নিয়ে শিল্পাঞ্চল সরগরম। কয়লা পাচারে সিবিআই তদন্তের মামলার
বিচার পক্রিয়া চলছে আসানসোল সিবিআই বিশেষ আদালতে। সেখানে মূখ্য অভিযুক্ত
অনুপ মাজি ওরফে লালা। সেই লালার সঙ্গেই বিজেপি নেতার যোগসূত্র গেঁথে
মৌচাকে ঢিল ছুড়ে দিয়েছেন দিলীপ।
বিষয়টি নিয়ে অর্জুন সিংকে ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা যায়নি। হোয়াটস অ্যাপ ও ভয়েস মেসেজের উত্তর মেলেনি।
আসানসোল
দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের কয়লা পাচার নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই সরগরম হয়েছে
রাজ্য রাজনীতি। সিবিআই তদন্ত শুরু হতেই বিজেপি আওয়াজ তোলে তৃণমূলের শীর্ষ
নেতারা এই তদন্তে জেলে যাবে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি এই পাচার কাণ্ডের
তদন্তে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদও করে। যদিও এখনও কোন বড় মাপের তৃণমূল নেতা এই
কাণ্ডে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হয়নি। অন্যদিকে তৃণমূল সাফাই দিয়েছিল
কেন্দ্রীয় সরকারের মদত ছাড়া কয়লা লুট অসম্ভব। কারণ কয়লার নিরাপত্তার
দায়িত্বে থাকে সিআইএসএফ ও ইসিএলেরর সিকিউরিটি। তদন্তে মূখ্য অভিযুক্ত
হিসাবে উঠে আসে লালা মামলায় গ্রেপ্তার হয় ইসিএলের একাধিক জিএম সহ বহু
আধিকারিক। লালা-ইসিএল যোগসূত্র সিবিআই আদালতে নথি দিয়ে দেখিয়েছে। এবার সেই
লালার সঙ্গেই বিজেপির যোগসূত্র গেঁছে দিলেন খোদ দিলীপ ঘোষ। লালা অর্জুন
সিং ঘনিষ্ট? এই প্রশ্ন ঘুরছে শিল্পাঞ্চলে। যদিও দুর্গাপুরবাসীর সন্দেহের
অবকাশ নেই অর্জুন সিং ও রাজু ঝাঁর ঘনিষ্টতা নিয়ে।
শিল্পাঞ্চলে অন্যতম বড় কয়লা কারবারি রাজু ঝাঁকে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হওয়ার পর তাঁর বাড়িতে সমবেদনা জানাতে এসেছিলেন অর্জুন। সেই রাজু ঝাঁই দিলীপ ঘোষের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেন। তখনও অর্জুনের বড় ভূমিকার কথা জানিয়েছেন তৎকালীন রাজ্য সভাপতি। এই বিষয়টি শিল্পাঞ্চলের বিজেপিকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে। এনিয়ে প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য একাধিক বার ফোন করা হলেও ফোন ধরেননি বিজেপি জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টচার্য। বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলকে ফোন করা হলে উনি ফোন কেটে দেন। আরেক বিজেপি বিধায়ক অজয় পোদ্দার বলেন, এত বড় মাপের নেতাদের নিয়ে কোন মন্তব্য করতে পারব না।
তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক ভি
শিবদাসন দাসু বলেন, বর্তমান সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির মদত ছাড়া কয়লা
পাচার অসম্ভব। আমরা প্রথম থেকেই এই কথা বলে আসছি এবার দিলীপ বাবু তা
প্রকাশ্যে আনলেন। কংগ্রেস রাজ্য সম্পাদক প্রসেনজিৎ পুইতণ্ডি দিলীপ ঘোষের
মন্তব্য সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে বলেন, তৃণমূল চোর, বিজেপি ডাকাত। দু’য়ে
মিলে খনি অঞ্চল লুট করছে। সিপিএম জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়
বলেন, অর্জুন সিংয়ের সাথে কয়লা কারবারের যোগ আগেই শুনেছি। তৃণমূলের কয়লা
লুটে বিজেপি মন্ত্রীর যোগ রয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন