নয়াদিল্লি: গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ সংবাদমাধ্যম। কিন্তু মোদি জমানায় সেই সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অভিযোগ বারবারেই উঠেছে। এবার ২০২৫ সালে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংক্রান্ত যে সূচক প্রকাশ করেছে, তাতে ভারতের অবস্থান মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, গতবারের তুলনায় এবার উন্নতি হলেও ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি এখনও দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের মতোই ‘অতি গুরুতর’ পর্যায়েই রয়ে গিয়েছে। আরএসএফের বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে মোদির ভারতের স্থান ১৫১ নম্বরে।
গত দু’বছরের তুলনায় তালিকায় সামান্য এগিয়েছে। কিন্তু তা সন্তোষজনক বলে মনে করার কোনও কারণ নেই। আরএসএফের দাবি, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের সংবাদমাধ্যম এখন ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’র মধ্যে রয়েছে। ওই বেসরকারি সংস্থা আরও বলেছে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর সংবাদমাধ্যমে আধিপত্য রয়েছে এমন বৃহৎ পরিবারগুলির সঙ্গে বিজেপির দারুণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।
আরএসএফ ২০০২ সাল থেকে এই তালিকা প্রকাশ করে আসছে।
২০২৩ সালে তাদের সূচকে ভারত ছিল ১৬১ তম স্থানে। এর পরের বছর দু’ধাপ এগিয়ে
১৫৯ তম স্থানে ছিল ভারত। এবারের তালিকায় প্রতিবেশী বাংলাদেশও ভারতের থেকে
দু’ধাপ এগিয়ে রয়েছে। আরএসএফ তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, ‘সাংবাদিকদের নানাভাবে
নিগ্রহ, সংবাদমাধ্যমের অতি কেন্দ্রীভূত মালিকানা, রাজনৈতিক সমীকরণের মতো
কারণে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সঙ্কটের মুখে
পড়েছে।’
সংস্থার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, হিন্দু জাতীয়তাবাদের মূর্ত প্রতীক মোদি ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সম্পর্কে আরএসএফ বলেছে, ‘কাজের জন্য প্রতি বছর গড়ে দু’-তিনজন সাংবাদিককে খুন হতে হয়। সংবাদমাধ্যমের জন্য ভারত বিশ্বের বিপজ্জনক দেশগুলির অন্যতম।’ সংস্থা আরও বলেছে, ‘যেসব সাংবাদিক সরকারের সমালোচনা করেন, তাঁদের নিয়মিত অনলাইন নিগ্রহ, হুমকি তো বটেই শারীরিক হেনস্তার মুখেও পড়তে হয়। পাশাপাশি ফৌজদারি মামলা ও একতরফা গ্রেপ্তারও করা হয়।’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন