দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জেলায় ভূগর্ভের জলের পরিমাণ এবং গুণগত মান যাচাই করতে এই প্রথম নমুনা পরীক্ষা করবে স্টেট ওয়াটার ইনভেস্টিগেশন ডিরেক্টরেট (সুইড)। সেই সমীক্ষার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় একটা বড় অংশ জুড়ে নোনা জলের প্রভাব দেখা যায়। তাই আধিকারিকরা দেখতে চাইছেন, ২৯টি ব্লকে জলের মান কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং নোনা জলের প্রভাব কতটা পড়েছে।
এজন্য
একাধিকবার নমুনা সংগ্রহ করে এই সমীক্ষা চালাবেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাক বর্ষা,
বর্ষাকাল, বর্ষা বিদায় নেওয়ার পর এবং শেষে শীতকালে ভূগর্ভের জল নিয়ে
পরীক্ষা করা হবে। আগে কখনও এই ধরনের সমীক্ষা জেলায় হয়নি। বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, মাটির বেশ গভীরে গিয়েই জলের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। মিষ্টি জলের
মধ্যে লবণাক্ত ভাব আছে কি না, বা থাকলেও কতটা, সেটাই দেখা হবে। যত বেশি
বৃষ্টি হবে, তত ভূগর্ভের জলের নোনাভাব কেটে যাবে। সে কারণেই বিভিন্ন
পর্যায়ে জলের নমুনা সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা করার পর
যে রিপোর্ট আসবে, তার ভিত্তিতে আগামী দিনে এই জেলার ভূগর্ভস্থ জল নিয়ে
নির্দিষ্ট নীতি তৈরি হতে পারে। সেটা মাটির নীচের জল সংরক্ষণ এবং তার সঠিক
ব্যবহার নিশ্চিত করবে।
জেলার এক আধিকারিক বলেন, মাটির নীচের জলের পরিমাণ
তো দেখা হবেই। কিন্তু সমীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল জলের গুণমান
পরীক্ষা করা। সুন্দরবন লাগোয়া ব্লকগুলিতে এমনিতেই নোনা জল বেশি পাওয়া
যায়। শহরকেন্দ্রিক যেসব এলাকা রয়েছে, সেখানে এই নোনা জলের প্রভাব কতটা
রয়েছে, সেটাও বিশ্লেষণ করা হবে। এই সমীক্ষার ফলে জেলার বিভিন্ন ব্লকের
ভূগর্ভস্থ জলের স্তর সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলেও মনে করা
হচ্ছে। এই তথ্য ভবিষ্যতে জল ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন