কলকাতা: এমাসের শেষ সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে বলে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন। যেহেতু এই সময়টা বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির মরশুম, তাই এটি তৈরির প্রক্রিয়ার শুরুতেই আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষ নজরদারি শুরু হয়ে যাবে। আরব সাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হবে তার আগেই। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর সোমবার জানিয়েছে, বুধবার নাগাদ কর্ণাটক উপকূল সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হবে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার আরব সাগরের ওই অংশে তৈরি হবে একটি নিম্নচাপ। সেটি আরও শক্তি বাড়িয়ে উত্তর দিকে এগবে। আরব সাগরের নিম্নচাপটি শক্তি বৃদ্ধি করলেও সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, সেই ব্যাপারে আবহাওয়া দপ্তর এখনও কিছু জানায়নি। ১৫ মে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর যে দু’সপ্তাহের দীর্ঘকালীন পূর্বাভাস জারি করেছিল, তাতে আরব সাগরে গভীর নিম্নচাপ পর্যন্ত সৃষ্টির সম্ভাবনা জানিয়েছিল তারা।
এ-মাসের
শেষলগ্নে বঙ্গোপসাগরে যে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে, তা ওই দীর্ঘকালীন
পূর্বাভাসেও ছিল। কিন্তু ওই নিম্নচাপটি আরও শক্তি বাড়াবে কি তা বলা হয়নি।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর ফের দীর্ঘকালীন পূর্বাভাস দেবে ২২ মে। তাতে
বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটির গতিপ্রকৃতি নিয়ে কিছু দিশা মিলতে পারে। আপাতত
অনুমান, মে মাসের শেষ সপ্তাহে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপটি তৈরি
হবে। এটি তারপর উত্তর বঙ্গোপসাগরের দিকে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা,
বঙ্গোপসাগরের ওই অংশে কোনও শক্তিশালী নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে
সেটির ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ-মায়ানমার উপকূলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনাই
বেশি।
নিম্নচাপ সৃষ্টির পর সেটির সম্ভাব্য গতিপথ কী হবে এবং তা কতটা
শক্তিশালী হবে, সেই ব্যাপারে নির্দিষ্ট পূর্বাভাস জারি করতে শুরু করে
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। সব মিলিয়ে মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুন মাসের
প্রথম দিকে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল এলাকায় নিম্নচাপের প্রভাব পড়বে কি না সেটাই
এখন দেখার বিষয়। আপাতত রাজ্যজুড়ে ঝড়বৃষ্টি চলবে বলে আবহাওয়া দপ্তর
জানিয়েছে। সোমবার উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে
ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। প্রাক বর্ষাকালে, মে মাসে রাজ্যে বজ্রমেঘ সঞ্চারের প্রবণতা
বেড়ে যায়। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান,
এটাই এখন হচ্ছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা অবস্থান
করছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন