কলকাতা: প্রখর দাবদাহে পুড়ছে গোটা রাজ্য। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় রীতিমতো তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি। তবে এবার স্বাভাবিকের চেয়ে তিন-চারদিন আগেই ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ ঘটবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর শনিবার তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, আগামী ২৭ মে কেরলে প্রবেশ করবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। এর অর্থ সেদিনই বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটবে দেশের মূল ভূখণ্ডে। বিগত বেশ কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, দেশে বর্ষা ঢোকার স্বাভাবিক সময় ১ জুন। অর্থাৎ, এবার কয়েকদিন আগে বর্ষার আগমন ঘটছে। আবহাওয়াবিদরা অবশ্য জানাচ্ছেন, কেরলে বর্ষা কয়েকদিন আগে ঢুকলেও পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার আগমনের দিনক্ষণে তেমন কোনও পরিবর্তন নাও হতে পারে। উত্তরবঙ্গে বর্ষা প্রবেশের স্বাভাবিক সময় ধরা হয় ৫-৬ জুন। আর দক্ষিণবঙ্গে ১০ জুন বা তার আগেপিছে এক-দু’দিন। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাংলায় কবে মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটছে, তার কোনও আভাস এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। কেরলে বর্ষা ঢোকার পর কিছুটা আভাস দেওয়া যেতে পারে।
এদিকে আলিপুর
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১৪ মে অর্থাৎ বুধবার পর্যন্ত একইভাবে তীব্র
গরম থাকবে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ সহ উত্তরবঙ্গের এক-দু’টি জেলায়। দক্ষিণবঙ্গের
পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি অর্থাৎ পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম
মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে বুধবার পর্যন্ত রীতিমতো তাপপ্রবাহ চলবে। এসব জায়গায়
তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি বা তার বেশি এবং স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
পর্যন্ত বেশি হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহের মতো
পরিস্থিতি না হলেও তীব্র গরমে ভুগতে হবে। এই সময়কালে বিকেলের দিকে কোথাও
কোথাও সামান্য ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বিক্ষিপ্তভাবে। কিন্তু তাতে গরমের
দুর্ভোগের হাত থেকে খুব একটা সুরাহা মিলবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। ১৪ তারিখ
এবং তারপর দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার
সারাদিন তীব্র গরমে জেরবার হতে হয়েছে মানুষকে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি অতিক্রম করে গিয়েছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।
কলকাতা সংলগ্ন দমদমে ৪০.২, বারাকপুরে ৪০, সল্টলেকে ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গরম
পড়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডায় (৪৩.২ ডিগ্রি)। চড়া রোদ আর তীব্র
গরমে জেরবার হতে হয়েছে পথেঘাটে বেরনো মানুষকে। কখন নামবে স্বস্তির বৃষ্টি,
আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে আম জনতা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন