নয়াদিল্লি: টি-২০ ফরম্যাট থেকে আগেই বিদায় নিয়েছেন বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা। টেস্ট ক্রিকেটেও আর দেখা যাবে না দুই তারকাকে। তাঁরা খেলবেন শুধু পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেট। সেই বিচারে ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপই হতে চলেছে বিরাট-রোহিতের লক্ষ্য। কিন্তু দু’জনে কি ততদিন এই ফরম্যাটে দেশের হয়ে খেলবেন? সুনীল গাভাসকর অন্তত তা মনে করেন না। কিংবদন্তি ওপেনার বলেছেন, ‘ওরা বিশ্বকাপ খেলবে বলে তো আমার মনে হয় না। সত্যি বলতে, আমার তেমনই ধারণা। তবে পরের বছর কী হবে তা কেউ বলতে পারে না। এমনও হতে পারে যে ওরা সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি করতে থাকল। তখন ভগবানও ওদেরকে বাদ দিতে পারবে না।’
কয়েক মাস আগে ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স
ট্রফি জেতার নেপথ্যে বড় অবদান ছিল কোহলি ও রোহিতের। সেই প্রসঙ্গ টেনে সানির
মন্তব্য, ‘একদিনের ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স রয়েছে ওদের। কিন্তু
বিশ্বকাপের দলে থাকার মতো অবদান করতে পারবে ওরা? নির্বাচকদেরই ভাবতে হবে
এটা নিয়ে। নির্বাচকরা যদি মনে করেন ওরা দু’জনে এমন পারফরম্যান্সই করতে
পারবে, তবে ওরা বিশ্বকাপের দলে থাকবে।’ কোহলির টেস্ট থেকে অবসরের
সিদ্ধান্তে একেবারেই বিস্মিত নন গাভাসকর। তাঁর কথায়, ‘কোহলি ও রোহিত নিজের
শর্তে বিদায় নিয়েছে টেস্ট থেকে। এটা বড় ব্যাপার।’
অনিল কুম্বলে অবশ্য
একেবারেই উল্টো মেরুতে। কোহলির অবসরে অবাক তিনি। কিংবদন্তি লেগস্পিনার
বলেছেন, ‘আমার কাছে এটা মস্ত বড় সারপ্রাইজ। কয়েক দিনের মধ্যে দু’জন গ্রেট
ক্রিকেটার টেস্টকে বিদায় জানাল। আমি তো এটা ভাবতেই পারছি না। অস্থির লাগছে
নিজেকে। কোহলি আরও কয়েক বছর টেস্ট খেলতেই পারত। এখন তো ও শুধু ওডিআই খেলবে।
তবে এটা পুরোপুরিই সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের সিদ্ধান্ত।’ এমন তারকা
ক্রিকেটারদের অবসর বর্ণময় হওয়া উচিত বলে মনে করছেন টেস্টে ৬১৯ উইকেটের
মালিক। কুম্বলের মতে, ‘এটা একেবারেই চুপচাপ বিদায় নেওয়া। আমার মনে হয়
প্রত্যেক ক্রিকেটারের মাঠে বিদায় নেওয়ার সুযোগ পাওয়া উচিত। রবিচন্দ্রন
অশ্বিনের অবসরের সময়ও এটা বলেছিলাম। সফরের মাঝপথেই দেশে ফিরে এসেছিল ও।
অশ্বিন, রোহিত ও বিরাট— তিনজনেরই মাঠে সমাদরের সঙ্গে বিদায় প্রাপ্য ছিল।’
আসন্ন
ইংল্যান্ড সফরে পাঁচ টেস্টের সিরিজে ভারতের সম্ভাবনা অনেকটাই কমছে বলে মনে
হচ্ছে কুম্বলের। তাঁর বক্তব্য, ‘রোহিত দীর্ঘদিন ধরে টেস্ট ক্যাপ্টেন ছিল।
আর বিরাট ছিল ভারতের সফলতম ক্যাপ্টেন। ইংল্যান্ড সফরে এদের দু’জনের কাউকে
অন্তত থাকতে হতো। ইংল্যান্ডে পাঁচ টেস্টের সিরিজে তাই কঠিন লড়াই অপেক্ষায়।
আমার মনে হয়, নির্বাচকদের কাছেও বিরাটের সিদ্ধান্ত বিস্ময়কর। নাহলে ওরা
নিশ্চয়ই থেকে যেতে বলত।’ আসন্ন টেস্ট সিরিজে যশপ্রীত বুমরাহকে ভারতের
নেতৃত্বে দেখতে চান গাভাসকর। তাঁর যুক্তি, ‘অন্য কেউ ক্যাপ্টেন হলে সে
বুমরাহকে সবসময়ই বাড়তি বোলিং করাতে চাইবে। কারণ, ওই দলের সেরা বোলার। যখন
তখন উইকেট নিতে ওই পারে। কিন্তু বুমরাহ ক্যাপ্টেন হলে ও বুঝতে পারবে কখন
বোলিং করবে, কখন বিশ্রাম নেবে, কখনই বা ক্লান্ত মনে হচ্ছে। সেজন্যই বুমরাহর
ক্যাপ্টেন হওয়া উচিত।’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন