নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিদের গুলিতে মুছে গিয়েছিল সিঁথির সিঁদুর। সেই হানারই বদলা নিল ভারত, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর হাত ধরে। ভারতের প্রত্যাঘাতকে এভাবেই দেখছেন জঙ্গি হানায় নিহত নৌসেনা আধিকারিক লেফটেন্যান্ট বিনয় নারওয়ালের স্ত্রী হিমাংশী। যেভাবে ২৬ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছিল জঙ্গিরা, মোদি সরকার সেই হানার ‘যোগ্য জবাব’ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। হিমাংশী বলেন, ‘হামলাকারীদের কাছে কাতর অনুরোধ করে বলেছিলাম, আমাদের মাত্র ছ’দিন বিয়ে হয়েছে। আমাদের রেহাই দিন। জবাবে ওরা বলেছিল, মোদিকে বলুন। আজ মোদিজি ও ভারতীয় সেনাবাহিনী ওদের জবাব দিল। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হানার জবাবে যেভাবে প্রত্যাঘাত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত তৃপ্তির। কিন্তু বিনয় সহ ২৬ জন আমাদের মধ্যে আর নেই। সেই দুঃখ ভোলার নয়।’
পহেলগাঁওয়ে
গত ২২ এপ্রিল নিহত স্বামীর দেহের পাশে বসে থাকা ও শেষকৃত্যে কফিন জড়িয়ে
হিমাংশীর কান্নার ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এদিন ‘অপারেশন
সিন্দুর’-এর কথা বলার সময়েও তাঁর চোখে জল। যন্ত্রণা-কষ্ট বুকে চেপে নৌসেনার
স্ত্রী আরও জানান, এই অভিযানের জন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
জঙ্গিগোষ্ঠী ও তাদের মদতদাতাদের কড়া বার্তা দিয়েছে মোদি সরকার। আমাদের ২৬টি
পরিবার যে যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, পাকিস্তানও সেই যন্ত্রণা উপলব্ধি
করতে পারল। সেই সময়ে অনেকে আমার কথা নানাভাবে বিকৃত করে প্রচার করছিল।
কিন্তু আমরা আশা করেছিলাম, সরকার আমাদের সব হারানোর যন্ত্রণাটা বুঝবে।
আজকের প্রত্যাঘাত সেই কষ্টকে কিছুটা লাঘব করল। এই জবাব প্রত্যেক ভারতীয়ের
কাছে গর্বের মুহূর্ত।
এই প্রত্যাঘাতের পরেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
নেওয়া যেন থেমে না যায়, তার জন্য মোদি সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
হিমাংশী বলেন, ‘আমার স্বামী প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কাজ করত। দেশে যেন শান্তি
বজায় থাকে, সেটাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। সরকারকে এই প্রত্যাঘাতের জন্য ধন্যবাদ।
কিন্তু তা যেন এখানেই না থামে। বদলে এটা যেন সন্ত্রাসবাদ দমনের সূচনা হয়।’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন