বহরমপুর: দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘটনের পর সপ্তাহ পেরয়নি। তার মধ্যেই পর্যটকের ঢল নেমেছে সেখানে। উল্লেখ্য, পুরী জগন্নাথধামের অনুকরণেই তৈরি হয়েছে দীঘায় জগন্নাথ মন্দির। তবে উদ্বোধনের পর থেকে, দীঘার মন্দির লক্ষ্য করে একের পর এক বিতর্কের অবতারণা করছে ওড়িশা। তারা প্রথম আপত্তি জানিয়েছে এখানে ‘জগন্নাথধাম’ নামকরণে। পাশাপাশি, পুরীর মন্দিরের নিমকাঠে দীঘার মন্দিরের বিগ্রহ তৈরির অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসবের কোনোটাই যে সত্য নয়, তা সোমবার সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলার
বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদসহ মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা
প্রশ্ন, ‘জগন্নাথ মন্দিরটা খুব গায়ে লেগেছে না? এত গায়ে লাগছে কেন? জগন্নাথ
মন্দির নিয়ে এত হিংসা কীসের? আপনাদের যখন আলুর টান পড়ে বাংলা কি জোগায়
না? সাইক্লোনে বিদ্যুতের সব ভেঙে যায়। রাস্তার পাইপগুলো এবং ওয়্যারহাউস
নষ্ট হয়ে যায়। ইঞ্জিনিয়ার চান। আমাদেরও সাইক্লোন হয়। তা সত্ত্বেও আমরা কি
ইঞ্জিনিয়ার পাঠাই না? তাহলে আমরা যদি একটা জগন্নাথ মন্দির করি, আপনাদের
আপত্তির কী আছে? আপনারাও ভালো থাকুন। বাংলাও ভালো থাকুক।’
দীঘার মন্দিরে মার্বেলের মূর্তি থাকা সত্ত্বেও, নিয়ম মেনে নিমকাঠেরও একটি মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। সেটি দৈতাপতি নিয়ে এসেছেন। তবে যেখান থেকে বলা হচ্ছে (পুরীর মন্দির), সেটি সেখান থেকে আনা হয়নি বলেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ, কাঠ চুরির অভিযোগ যে একেবারে ভিত্তিহীন, তা এদিন তিনি পরিষ্কার করে দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিমকাঠ চুরি করতে হবে, এমন দুরবস্থা মমতা ব্যানার্জির হয়নি।’
মমতার এই হুঙ্কারে পরে নমনীয় হয়েছে ওড়িশার বিজেপি সরকারও।
তাদের আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন স্বীকার করে নিয়েছেন যে, নিমকাঠ
চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন। পুরী থেকে নয়, ভুবনেশ্বর থেকে নিয়ে যাওয়া নিমকাঠ
দিয়ে দীঘার মূর্তি তৈরি হয়েছে বলেও তাঁদের তদন্তে উঠে এসেছে।
এমনকী,
দীঘায় পুজো করতে আসা দৈতাপতিকে ওড়িশায় প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে বলেও
জানান মুখ্যমন্ত্রী। আর বাংলার প্রতি এই বিরূপ মনোভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
‘আমরা তো পুরীতে যাই। আমি পুরীতে গেলে আরএসএস, বিজেপি বিক্ষোভ দেখায়। ভুলে
গিয়েছেন? লজ্জা করে না?’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন