কী কী উপসর্গ দেখে সাবধান
হবেন? সার্জারি লাগবে নাকি ওষুধ? জেনে নিন খুঁটিনাটি।
জীবনযাপনের ভুলে যেসব অসুখের শিকার হতে পারেন, তার অন্যতম কিডনিতে স্টোন। এই অসুখের অন্যতম কারণ কম জলপান। এছাড়া কিডনির নিজস্ব কোনও সমস্যা থাকলে বা কিডনিতে অধিক ক্রিশ্টাল জমলেও এই সমস্যা দেখা দেয়।
কিডনির ভিতর ইউরিক অ্যাসিড, ক্যালশিয়াম ইত্যাদি খনিজ জমে খুব ছোট ছোট ক্রিস্টাল তৈরি হয়। কিডনি থেকে স্বাভাবিক নিয়মে মূত্রের মাধ্যমে এই ক্রিস্টালগুলি বেরিয়ে আসে। কিন্তু কোনও কারণে এই ক্রিস্টালগুলি বেরতে না পারলে তখন সমস্যা তৈরি হয়।
কী কী ক্ষতি?
কিডনির ভিতর স্টোন স্থির হয়ে এক জায়গায় বসে থাকলে কিডনির তেমন কোনও ক্ষতি বা কাজ করার অসুবিধা হয় না। তবে স্টোনের আকার একটু বড় হলে সেখান থেকে সংক্রমণের ভয় থাকে। তাই কিডনির ছোটখাট স্টোন চিকিৎসকরা জল খাইয়ে ও প্রয়োজন মতো ওষুধ দিয়ে মূত্রের মাধ্যমে বের করে দিতে চান।
তবে স্টোনের আকার ও অবস্থান দেখে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্টোনের আকার একটু বড় হলে ও তা মূত্রের মাধ্যমে বেরতে চাইলে অনেক সময় ইউরেটরের নালিতে এসে তা আটকে যায়। তখন কিডনি ফুলে যায়, প্রবল ব্যথা হয় ও দ্রুত কিডনির অবনতি ঘটতে থাকে। অস্ত্রোপচার ছাড়া গতি থাকে না। একটি কিডনিতে একাধিক স্টোনও হতে পারে। পাথরের আকারও এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। সাধারণত ১ মিমি থেকে শুরু করে ৮ সেমি পর্যন্ত হতে পারে।
কী কী উপসর্গ?
ছোট একটি স্টোন মূত্রের মাধ্যমে বেরতে গিয়ে ইউরেটারে আটকে গেলে রোগীর তলপেট ও কোমর জুড়ে ব্যথা হবে। জ্বরও আসতে পারে কারও কারও ক্ষেত্রে। বমিভাব থাকে ও প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তও বেরতে পারে। তবে বহু ক্ষেত্রে কিডনি স্টোনের কোনও লক্ষণ থাকে না। কারও পিঠের নীচের দিকে অল্প ব্যথা হতে পারে।
কীভাবে রোগ নির্ণয়
আলট্রা সোনোগ্রাফি এবং ইউরিন টেস্ট করে পাথর আছে কি না নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে স্টোন ইউরেটারে অনেকটা নেমে গেলে সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।
কোন পথে চিকিৎসা
ওষুধ ও সার্জারি, দুই মাধ্যমেই এই চিকিৎসা চলে। ৫ মিলিমিটারের থেকে ছোট স্টোন কিডনির মধ্যে বসে থাকলে ওষুধ দিয়ে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়া হয়। এর চেয়ে বড় আকারের স্টোন কিডনিতে বসে থাকলে বা যে কোনও আকারের পাথর ইউরেটারে আটকে গেলে সার্জারি করা হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাইক্রোসার্জারি করা হয়।
ঘরোয়া ভেষজ হিসেবে রোগীকে কুলত্তকলাই ভেজানো জল খাওয়ানো হয়। এই জলে কিডনি ভালো থাকে। পাশাপাশি ইউরিন বেশি পরিমাণে তৈরি হয়। ইউরিনের চাপে পাথর বেরিয়ে আসে।
রোগ প্রতিরোধে কী করব?
* স্বাভাবিক জল পান করুন। আপনার শরীরে কতটা জলের প্রয়োজন আছে, তা জেনে নিন চিকিৎসকের কাছ থেকে। সেই অনুযায়ী জল খান। সুগারের রোগীরা সপ্তাহে এক-দু’দিন এক গ্লাস কুলত্তকলাইয়ের জল খেতে পারেন। তবে তার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন