ঢাকা: বুধবারের দুপুর। ঢাকার ব্যস্ত এলাকা বলে পরিচিত নয়া পল্টনের রাস্তায় যতদূর দেখা যায়, শুধুই মানুষ। স্লোগানে মুখরিত চারপাশ। দাবি একটাই, ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। রাজধানীতে বিরাট জনসমাবেশ আয়োজন করে মহম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ল খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। সেই ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’-এ তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা স্পষ্ট, চলতি বছর শেষের আগেই নির্বাচন চাই। এই নিয়ে পদত্যাগের নাটক করে আর কোনও লাভ হবে না।
কিছুদিন আগেই ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে দাঁড়িয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তারপরেই রটে যায়, প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে ইস্তফা দিতে চাইছেন ইউনুস। যদিও সেই জল্পনার বাস্তবায়ন হয়নি। সেই সময়ও একাধিক বিএনপি নেতা দাবি করেছিলেন, নির্বাচন এড়াতে পদত্যাগের ‘নাটক’ করছেন ইউনুস। এদিন প্রকাশ্য সভা থেকে ফের একই অভিযোগ তুলল খালেদা জিয়ার দল। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা কারও পদত্যাগ চাইনি, আমরা চেয়েছিলাম নির্বাচনের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ। কিন্তু দেশের মানুষ দেখতে পেল কেবল পদত্যাগের নাটক।’
ঘটনাচক্রে, ঢাকায় যখন এই সমাবেশ হচ্ছে, তখনই জাপান সফর করছেন ইউনুস। সফরের বিবরণ দিতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফের একবার জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন করতে চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। যদিও এদিন বিএনপি নেতৃত্ব বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন, কোনওমতেই তাঁরা নির্বাচন পরের বছরে নিয়ে যেতে ইচ্ছুক নন। সেক্ষেত্রে ইউনুস সরকারের সঙ্গে তাদের সংঘাতে বাংলাদেশে ফের সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সেই সম্ভাবনা উস্কে দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও। তিনি বলেন, ‘সংস্কারে যদি ঐকমত্য না হয়ে থাকে, তাহলে কান খুলে শুনে রাখুন, নির্বাচনের মাধ্যমে সেই সংস্কার করবে দেশের জনগণ। আপনারা সংস্কার করার কে?’
এদিনের সমাবেশ আয়োজনের দায়িত্বে ছিল বিএনপির যুব, ছাত্র ও স্বেচ্ছাসেবক বিভাগ। মূলত ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ফরিদপুর থেকে এদিন হাজার হাজার বিএনপি কর্মী-সমর্থক সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। তাতেই কার্যত জনসমুদ্র তৈরি হয় নয়া পল্টন এলাকায়। কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় রাজধানীর কয়েকটি অংশ। সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তৃতা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তথা জিয়া-পুত্র তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘অল্প সংস্কার আর বেশি সংস্কারের অভিনব শর্তের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আগামী নির্বাচনের ভবিষ্যৎ। জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, সংস্কার নিয়ে সময় নষ্টের আড়ালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারও ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। ডিসেম্বরেই নির্বাচন হবে।’ ভারত বা পাকিস্তান, কারও আধিপত্য মানা হবে না বলেও সুর চড়ান তিনি। এর আগে একাধিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে পেরেছে। কিন্তু ইউনুস সরকার কেন দশ মাসেও তা পারল না, তারেক সেই প্রশ্নও তোলেন।
ঢাকায় উপস্থিত নেতাদের মনোভাব ছিল আরও আক্রমণাত্মক। অন্যতম নেতা মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই সরকারের মাথা থেকে নীচ পর্যন্ত পচে গিয়েছে। এই সরকারের মধ্যে যারা রয়েছে, তাদের ৯০ ভাগ বাংলাদেশের নাগরিক নয়। নয় মাসে যা পারেননি, তা ৯ বছর বা ৯০ বছরেও পারবেন না। এই দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে একটা ব্যবস্থা করুন।’ সেনাপ্রধানের সুরেই রাখাইন করিডর তৈরি করা যাবে না বলেও দাবি করেন আব্বাস।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন