কলকাতা: কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে সায়েন্স মিউজিয়াম গড়ে তোলার ‘প্রাণপুরুষ’ বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ডঃ সরোজ ঘোষের জীবনাবসান হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ আমেরিকার সিয়াটলে ৮৯ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রেস বিবৃতিতে রবিবার জানানো হয়েছে। পরিবার সূত্রে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর মরদেহ বিজ্ঞান গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া হয়েছে।
ডঃ সরোজ
ঘোষ ন্যাশনাল কাউন্সিল অব সায়েন্স মিউজিয়ামের (এনসিএসএম) প্রতিষ্ঠাতা
ডিরেক্টর জেনারেল ছিলেন। এই পদে তিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত ছিলেন। এই সময়
দেশের বিভিন্ন শহরে সায়েন্স মিউজিয়াম তৈরি করার ক্ষেত্রে তাঁর
উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। ১৯৯৬ সালে ইএম বাইপাসে কলকাতার সায়েন্স সিটি
মিউজিয়াম চালু হয়। এটি এখন কলকাতার অন্যতম সেরা পর্যটক আকর্ষণ কেন্দ্র।
দিল্লির ন্যাশনাল সায়েন্স সেন্টার, মুম্বইয়ের নেহরু সায়েন্স সেন্টার,
আমেদাবাদের গুজরাত সায়েন্স সেন্টার চালু করার ক্ষেত্রে তিনি প্রধান ভূমিকা
নিয়েছিলেন। ছাত্র-ছাত্রী, গবেষকদের কাছে এই সায়েন্স মিউজিয়ামগুলির বিশেষ
গুরুত্ব তো আছেই, তাছাড়া দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞান সচেতনতা
বাড়াতে মিউজিয়ামগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল
থেকে অবসর নেওয়ার পরেও তাঁর কর্মকাণ্ড থেমে থাকেনি। কলকাতার টাউন হল
মিউজিয়াম, দিল্লির পার্লামেন্ট ভবনের মিউজিয়াম, রাষ্ট্রপতি ভবনের মিউজিয়াম
গড়ে উঠেছিল তাঁর পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে।
এই সমস্ত অবদানের জন্য তিনি
দেশে বিজ্ঞান মিউজিয়াম স্থাপনের ব্যাপারে ‘ভীষ্ম পিতামহ’ হিসেবে আখ্যা
পান। বিজ্ঞান ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ডঃ সরোজ ঘোষ ১৯৮৯ সালে পদ্মশ্রী
পুরস্কারে ভূষিত হন। পদ্মভূষণ পান ২০০৭ সালে। প্যারিসে ইন্টারন্যাশনাল
কাউন্সিল অব মিউজিয়ামের প্রেসিডেন্ট পদেও তিনি ছিলেন। আন্তর্জাতিক স্তরে
খ্যাতিসম্পন্ন সায়েন্স মিউজিয়াম সংক্রান্ত বিজ্ঞানীর পড়াশোনা আমেরিকার
বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন