নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিরা ২৬ জনকে হত্যা করে কী বার্তা দিয়েছিল? ভারতের হিন্দুদের বাছাই করে মারলাম। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জবাবে কী বলেছিলেন? ‘এবার সন্ত্রাসের শিকড় উপড়ে ফেলার সময় এসেছে।’ মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভারতীয় সামরিক বাহিনী ঠিক সেটাই করেছে। কিন্তু শুধুই কি জঙ্গিদের প্রাণ ও আস্তানা ধ্বংস? বস্তুত একটি অভিযান একসঙ্গে অনেক বার্তা দিয়ে গেল। কখনও ক্যাকটাস, কখনও বিজয়, কখনও ট্রাইডেন্ট ইত্যাদি বহু নাম অতীতে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় সামরিক অভিযানের। মঙ্গলবার কিন্তু বদলা নিল ‘সিঁদুর’। হিন্দু পুরুষদের চিহ্নিত করে মারা হয়েছিল পহেলগাঁওয়ে। অর্থাৎ হতভাগ্য নারীদের সিঁথির সিঁদুরে আক্রমণ করেছিল তারা।
সামরিক বাহিনীর বদলার নাম তাই ‘সিন্দুর’। নামকরণ? স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। অভিযানের নাম দিলেন। রাতভর নজরও রাখলেন। ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে যদি হিন্দু নারীর প্রতিশোধের বার্তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে মনে হতেই পারে সামরিক অভিযানে হিন্দুত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হল। অর্থাৎ যুদ্ধ অভিযানেও নরেন্দ্র মোদির সরকার ধর্মীয় আইডেন্টিটি প্রতিষ্ঠায় মরিয়া। আদতে সম্পূর্ণ বিপরীত। অভিযানের নাম যেখানে অপারেশন সিন্দুর, দেশাবসীকে সেই অভিযানের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হল দুই ধর্মের দুই নারীকে। বীরাঙ্গণাকে। যদিও বায়ুসেনা, আর্মি এবং নেভির জওয়ান অফিসারদের পরিচয় ধর্ম নয়, তাঁরা আপাদমস্তক ভারতীয় যোদ্ধা। মধ্যরাতের অপারেশন সিন্দুরের পর প্রথমবার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যখন সাংবাদিক সম্মেলনের দায়িত্ব দুই নারীকে দেওয়া হল, তখনই তাঁদের দেখে গোটা দেশ বুঝে গেল, শত চেষ্টা করেও ভারতে সাম্প্রদায়িক বিভাজনে পূর্ণাঙ্গ সাফল্য কেউ পাবে না।
ভারতীয় সেনার কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং বায়ুসেনার উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং বিবরণ দিলেন ২৫ মিনিটের অপারেশন সিন্দুরের। তাঁদের সঙ্গী ছিলেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি। এক কাশ্মীরি পণ্ডিত পুরুষ আধিকারিক, মুসলিম কর্নেল এবং হিন্দু উইং কমান্ডার গর্বের সঙ্গে দেশকে জানালেন ভারতের সাফল্যপূর্ণ অভিযানের কথা। এভাবে ভারত সরকার পাকিস্তানকে বার্তা দিল যে, যতই তারা জঙ্গি পাঠিয়ে ভারতে দাঙ্গা তৈরির চেষ্টা করুক না কেন, ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই সবথেকে বড় শক্তি। এমনকী বিক্রম মিশ্রি সেকথা বললেনও। তিনি বললেন, ‘জঙ্গিরা বহু চেষ্টা করছে, যাতে ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়। ভারতবাসী সেই প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছে। তাই ভারত সরকার ভারতবাসীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানায়।’
এখানেই
কি বার্তার সমাপ্তি? না। কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা
সিং এদিন সামরিক বাহিনীর ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, নারীশক্তি
ভারতের অলঙ্কার। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে লড়াইয়ে পুরুষদের সঙ্গে
নারীশক্তি সমানভাবে আগুয়ান রণাঙ্গনে। অবশ্য কে না জানে পাকিস্তানকে
একাত্তরের যুদ্ধে হারিয়ে দু’টুকরো করে দিয়েছিলেন এক নারীশক্তিই!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন