সীমান্তে ফের গোলাগুলি, আতঙ্কে ঘুম উড়েছে উরির - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

সোমবার, ৫ মে, ২০২৫

সীমান্তে ফের গোলাগুলি, আতঙ্কে ঘুম উড়েছে উরির

সীমান্তে ফের গোলাগুলি, আতঙ্কে ঘুম উড়েছে উরির

 

উরি: সীমান্তে লাগাতার সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে পাকিস্তান। সূর্য ডুবলেই বিনা প্ররোচনায় ভারতীয় ভূখণ্ডে গোলা-গুলি ছুঁড়ছে পাক সেনা। যার ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারা, উরি, আখনুর সেক্টরে সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলির বাসিন্দারা। ইতিমধ্যে অনেকেই আগাম সতর্কতা হিসেবে সরকারের তৈরি করে দেওয়া ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন। 


পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে পাক সেনার শেলিং উপত্যকার সীমান্ত লাগোয়া জনপদগুলির শান্তির পরিবেশকে ভেঙে খানখান করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে দুর্বল করে দিয়েছে মানুষের মনোবলও। টানা ১০ দিন ধরে গোলাবর্ষণ করে চলেছে পাকিস্তান। নিশানা করা হচ্ছে ভারতীয় সেনার পোস্টগুলিকে। সাম্প্রতিক হামলাটি হয়েছে শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত। উপত্যকার বিভিন্ন সেক্টরের অন্তত ৮টি জায়গায় পাক সেনা শেলিং করেছে বলে খবর। যদিও সেখানে হতাহতের কোনও খবর নেই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কুপওয়ারা, মেন্ধার, বারামুলা, পুঞ্চ, রাজৌরি, নৌশেরা, সুন্দরবানি এবং আখনুর সেক্টরে ভারতীয় সেনার পোস্টগুলিকে নিশানা করে গোলা-গুলি চালিয়েছে পাকিস্তান। যদিও ভারতের তরফে যোগ্য জবাবও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 


২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর শান্তি ফিরেছিল উরিতে। উত্তর কাশ্মীরের বারামুলা জেলার অন্তর্গত এই এলাকায় ধীরে ধীরে জনজীবন স্বাভাবিক হয়েছিল। মানুষের মুখে হাসি ফুটেছিল। স্কুল-কলেজ খুলেছিল। চালু হয়েছিল কৃষিকাজও। সেই সুখ অবশ্য বেশিদিন টিকল না নিয়ন্ত্রণরেখা-লাগোয়া এলাকার এই সমস্ত বাসিন্দাদের। 


স্থানীয় ব্লক ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (বিডিসি) প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান মহম্মদ হানিফের কথায়, ‘গত কয়েক বছর এই এলাকায় শান্তির পরিবেশ থাকায় মানুষ বাঙ্কারের কথা প্রায় ভুলতে বসেছিলেন। কিন্তু, এখন প্রাণ বাঁচাতে আমরা ফের সেই বাঙ্কারেই আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবছি।’ বর্তমান পরিস্থিতিতে এইধরনের ‘কমিউনিটি বাঙ্কার’-ই (যেখানে অনেকগুলি পরিবার একসঙ্গে থাকতে পারে) সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় বলে মনে করছেন স্থানীয় দোকানি মকসুদ আহমেদ মীর। 

তাঁর কথায়, ‘নিয়ন্ত্রণরেখায় শান্তি থাকায় আমাদের ব্যবসাও ভালো হচ্ছিল। মানুষ আবার তাদের ভাঙা ঘরবাড়ি মেরামত করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, অতীতের সেই ভয়াবহ দিন ফিরে আসছে। এখন এই বাঙ্কারগুলিই আমাদের ভরসা। কারণ, বাড়িতে আমরা কেউই নিরাপদ নই।’ একই কথা জানিয়েছেন স্থানীয় থাজ্জাল গ্রামের বাসিন্দা হানিফা বিবিও। তিনি গ্রামের সব বাড়িতে নিজস্ব বাঙ্কার তৈরি করে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। হানিফার কথায়, ‘অতীতে বহুবার ভয়াবহ ধ্বংসলীলার সাক্ষী থেকেছে আমাদের গ্রাম। এখন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বাঙ্কারগুলি ফের খুলছি। ঝাড়পোঁছ চলছে।’

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন