কাটোয়া : গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে এখন পুড়ছে। দাবদাহে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। গরম থেকে বাঁচতে নাজেহাল কাটোয়া শহরের বাসিন্দারাও। দু’দিন ধরে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে কাটোয়া শহরে। ঠান্ডা পানীয়তে চুমুক দিতে আখের রস, ডাব, তরমুজের চাহিদা বাড়ছে। এবার গরমে তরমুজের দাম দ্বিগুন। ডাবেরও দাম ব্যপক বেড়েছে। ভিনরাজ্যের তরমুজ শহরের বাজার দখল করলেও আমদানি কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
জানা গিয়েছে, কাটোয়া শহরে তরমুজের দাম দ্বিগুন ছুঁয়েছে।
আগের বছর যেখানে পাইকারি কেজি প্রতি ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এবার
সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজি প্রতি ১৫ থেকে ১৮ টাকা। শুধু তাই নয়, গরম থেকে
বাঁচতে ডাবের জলে অনেকে চুমুক দিচ্ছেন। এবার শহরে সেই ডাবের দামও ব্যাপক
হারে বেড়েছে। কাটোয়া শহরে ডাবের দাম হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা প্রতি পিস।
অন্যান্যবার বৈশাখ মাসে কাটোয়া শহরে ডাবের দাম হয় ২০, ২৫ টাকা থেকে
সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা পর্যন্ত।
কেন তরমুজ, ডাবের দাম বাড়ল। ব্যবসায়ীদের
একাংশ জানান, কাটোয়া শহরে স্থানীয় এলাকা ছাড়াও ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ,
কর্নাটক, গুজরাট থেকে তরমুজ আমদানী করা হয়। ভিনরাজ্যের তরমুজ আগে থেকেই
বাজারে চলে আসে। এবার পেট্রলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমদানি যেমন কম
হয়েছে, ঠিক তেমনি প্রচন্ড গরমের কারণে তরমুজ খুব একটা ভালো হয়নি। তাই
চাহিদা বাড়ার ফলে আমদানি কম হওয়ায় দাম বেড়ে গিয়েছে। কাটোয়া শহরের স্টেশন
বাজার, কাছারি রোড, নিচুবাজার সব জায়গাতেই তরমুজ ও ডাবের দাম দ্বিগুন
বেড়েছে।
কাটোয়া শহরের ব্যবসায়ী হীরা শেখ, নবকুমার বিশ্বাস বলেন,
মঙ্গলকোটের একাংশ, পুরুলিয়া এলাকা থেকেও তরমুজ আসে আমাদের শহরে। এবারে ওইসব
এলাকাতে তরমুজ খুব ভালো হয়নি। তাই ভিন রাজ্য থেকে বেশি আমদানি করতে হয়েছে।
তাছাড়া সেখানেও উৎপন্ন কম হওয়ায় তরমুজ আমদানি হয়েছে কম।
অন্যদিকে
কাটোয়া মহকুমা জুড়ে এবার ডাবের দামও বেড়ে গিয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশ বলেন,
এবার মহকুমা জুড়ে নারকেল গাছে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় ডাবে জল খুব একটা ভালো
হয়নি। তাছাড়া ফলনও খুব কম। তাই ডাবেত দামও এবার ব্যপক হারে বেড়েছে। একদিকে
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ, অন্যদিকে তরমুজ ও ডাবের দাম বেড়েছে। দু›দিকেই
সাধারণ মানুষ নাজেহাল হচ্ছেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন