কলকাতা:
‘অপারেশন সিন্দুরে’ থরহরিকম্প পাকিস্তানের। তার মধ্যেও ‘ছায়াসঙ্গী’ চীন ও
তুরস্কের বলে বলীয়ান হয়ে ভারতে বড়সড় হামলার ছক কষছে পাকিস্তান। এই আবর্তে
দেশের সর্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সহ
সাথী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘সবাই আমরা দেশের পক্ষে। এই মানসিকতা নিয়ে
কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশ লড়াই করছে। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁধে
কাঁধ মিলিয়ে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করব।’
তবে
বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলিকে রবীন্দ্র জয়ন্তীর (শুক্রবার) দিন থেকে
ছুটি দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। তিনি এদিন বলেন, ‘সরকারি স্কুলগুলিতে ৩০
মে ছুটি পরে গিয়েছে। বাচ্চারা বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করুক। তাই বেসরকারি
স্কুলগুলিকেও গরমের ছুটি সামান্য এগিয়ে এনে রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন থেকে
ছুটি দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি। এর জন্য কোনও লিখিত গাইডলাইন পাঠাচ্ছি না।’
বুধবার
মুর্শিদাবাদ থেকে ফিরে সরাসরি নবান্নে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। দুপুরে
সীমান্তবর্তী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী
অমিত শাহের ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেন তিনি। যদিও বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক
সম্মেলনে দেশের সুরক্ষার খাতিরে এই বৈঠক সংক্রান্ত কিছুই প্রকাশ্যে আনা
যাবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন মমতা। এদিন কেন্দ্র এবং রাজ্যের
সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা এবং দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক
করেন তিনি। বৈঠক সেরে সাধারণ মানুষকে অকারণে আতঙ্কিত না হওয়ার আর্জি
জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কারণ পুলিস এলাকায় এলাকায় নজর রাখছে। থানার
আইসিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ছুটিও বাতিল করা
হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘নজরদারি চলছে। যদিও এখনও চিন্তা করার কিছু হয়নি।
দেশের প্রতি বাংলার দায়বদ্ধতা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, আমরা
দেশকে ভালবাসি। বাংলা চিরকাল দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে। শান্ত-সংযত থেকে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
এই পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখতে সমাজ মাধ্যমে প্ররোচনামূলক পোস্ট বা ফেক নিউজের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার কোথাও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। কেন্দ্রের এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে রাজ্যের তরফে নোডাল অফিসার নিযুক্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন