নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের আইএসআই ভারতে কতদূর জাল ছড়িয়েছে? হরিয়ানার ইউটিউবার জ্যোতিরানি মালহোত্রাকে পাক গুপ্তচর সন্দেহে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারপরই বিভিন্ন রাজ্য থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে একাধিক সন্দেহভাজন। তাদের জেরা করে এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের ইনপুট থেকে তদন্তকারী সংস্থাগুলি জানতে পারছে পাক নেটওয়ার্ক শুধু যে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তেই ছড়িয়ে আছে, এমন নয়। বিদেশ থেকেও ভারতীয়দের জন্য ফাঁদ পাতা হয়েছে। আইএসআইয়ের পাশাপাশি এই স্পাই নেটওয়ার্কে জড়িয়ে খালিস্তানি সংগঠন।
ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি এবং হরিয়ানা, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশের তদন্তকারীদের পাশাপাশি তদন্তে যুক্ত হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে আই ফোর সি (ইন্ডয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার)। ইউটিউবার, ইনফ্লুয়েন্সার এবং রিলস নির্মাতাদের টার্গেট করছে আইএসআই। তাদের প্রচুর ফলোয়ার জুটিয়ে দেওয়া হবে এবং লাইক, কমেন্ট শেয়ার বেড়ে অনলাইন আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি করার সবরকম সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়ম করে হাওলার মাধ্যমে টাকা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানতে পারছে গোয়েন্দারা। পাকিস্তানে থাকা পাকিস্তানি নাগরিক তো বটেই, এমনকী বিদেশে থাকে পাক নাগরিকদের সঙ্গে যে কোন ভারতীয়দের নিয়মিত ভিডিও এবং টেক্সট মেসেজে যোগাযোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেওয়া হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে। বিদ্যুৎ, রেল, টেলিকম ইত্যাদি পরিকাঠামোয় চাকরি করছে কি না জেনে বন্ধুত্ব পাতানোর প্রথম ধাপ অতিক্রম করছে আইএসআই। যাতে এই ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টরের বিভিন্ন খবর জেনে নিয়ে চক্রান্তের প্ল্যান করা যায়। ভারতে আক্রমণের জন্য ব্যবহার করা হবে ভারতীয়দেরই। এই হল প্ল্যান। তাই স্পাই নিয়োগ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।
স্পাই নেটওয়ার্ক নির্মাণের অন্যতম মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া। জানা যাচ্ছে, জ্যোতি মালহোত্রাকে আইএসআই কাজে লাগিয়েছিল ভারতের গোয়েন্দার সংস্থাগুলির আন্ডারকভার এজেন্টদের চিহ্নিত করার জন্য। ভারতজুড়ে পাকিস্তান স্পাই নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। যে ১৪ জন পাক স্পাইকে হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে পাঞ্জাবের সুখপ্রীত সিং এবং করণবীর সিং অপারেশন সিন্দুর ও তৎপরবর্তী যুদ্ধের সময় পাঞ্জাবে ভারতীয় ট্রুপ মুভমেন্টের আপডেট পাঠাচ্ছিল আইএসআইকে। হরিয়ানা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মহম্মদ তারিফ সিরসায় এয়ার ফোর্স বেস স্টেশনের ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে। প্রসঙ্গত, ৯ মে সিরসা লক্ষ্য করে মিসাইল নিক্ষেপ করেছিল পাকিস্তানি সেনা। উত্তরপ্রদেশে গ্রেপ্তার হওয়া শাহজাদ ওয়াহিব সীমান্ত চোরাচালানের আড়ালে পাক গুপ্তচরের কাজ করত।
.jpeg)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন