নয়াদিল্লি: ‘অপারেশন সিন্দুর’ পাকিস্তানের মজ্জায় ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। আর এই অপারেশনের অন্যতম মুখ কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকেই ‘জঙ্গিদের বোন’ বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিজয় শাহ। এবার গেরুয়া শিবিরের মন্ত্রীকে তীব্র ভৎর্সনা করল জাতীয় মহিলা কমিশন। বুধবার কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির তরফে এমন অবমাননাকর মন্তব্য কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিস্থিতির সামাল দিতে মাঠে নেমে পড়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতা মুক্তার আব্বাস নাকভি ওই মন্ত্রীকে বোকা বলেও কটাক্ষ করেছেন। অগত্যা চাপে পড়েই উল্টো সুর মন্ত্রীর গলায়। তিনি জানান, তাঁর মন্তব্যের জন্য একবার নয়, প্রয়োজনে দশবার ক্ষমা চাইতেও রাজি আছেন। এরই মধ্যে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।
পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলায় মৃত নৌসেনা অফিসারের স্ত্রী হিমাংশী
নারওয়াল দিনকয়েক আগে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছিলেন। মুসলিম বা
কাশ্মীরীদের প্রতি কেউ যাতে ঘৃণা না ছড়ায় সেই আহ্বানও জানান। এর জেরে
সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল হিমাংশীকে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা হওয়ার পর
বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রিকেও কটাক্ষের শিকার হতে হয়। রেহাই পাননি তাঁর
মেয়েও। এবার কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে ‘জঙ্গিদের বোন’ বলে সম্বোধন করেন
মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিজয় শাহ। সোমবার তাঁর এহেন
মন্তব্যের পরই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। সেইসূত্রেই বুধবার কড়া সমালোচনায়
করে জাতীয় মহিলা কমিশন। কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর বলেন - একজন
দায়িত্বশীল ব্যক্তির তরফে নারীদের প্রতি এমন অবমাননাকর মন্তব্য মেনে নেওয়া
যায় না। এটি নারীদের মর্যাদাকে আঘাত করার পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তার
দায়িত্বে থাকা বীরাঙ্গনাদের কাছেও অত্যন্ত অপমানজনক। কর্নেল সোফিয়া
কুরেশিকে নিয়ে গোটা দেশ গর্বিত। তিনি সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের সেবা
করেছেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়েছে গেরুয়া
শিবির। মন্ত্রীর মন্তব্যের কড়া নিন্দা করে বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা মুক্তার
আব্বাাস নাকভি জানান, ও বড্ড বোকা। উত্তেজনার বশে অনেকেই নিজেকে ঠিক রাখতে
পারে না। বিজয় শাহরও একই অবস্থা হয়েছে। বিজয় শাহকে রীতিমতো সতর্ক করে
দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশ বিজেপির সভাপতি ভি ডি শর্মা। তিনি জানান, সোফিয়া কুরেশি
আমাদের দেশের কন্যা। যে যত বড়ই শীর্ষস্তরের নেতা হোক না কেন, এধরনের
মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই। পরিস্থিতি প্রতিকূল দেখে দ্রুতই ক্ষমা
চাওয়ার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নিজের বোনের থেকেও বেশি
শ্রদ্ধা করি সোফিয়াকে। স্বপ্নেও তাঁকে অপমানের কথা ভাবতে পারি না। তাও আমার
শব্দ যদি কোনও ধর্ম বা জাতির আবেগে আঘাত করে বা সোফিয়াকে অসম্মানিত করে,
তাহলে দশবারও ক্ষমা চাইতে রাজি আছি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন