নয়াদিল্লি: করোনাকালে কোভিডে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যায় ধামাচাপা দিয়েছিল সরকার? সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের (সিআরএস) তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে গরমিল ঘিরে উঠছে প্রশ্ন।
দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিকভাবে ২০২১ সালে কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা দেখানো হয়েছিল ৩ লক্ষ ৩০ হাজার। কিন্তু সিআরএসের তথ্য বিশ্লেষণের পর দেখা যাচ্ছে, ওই বছর দেশে বাড়তি মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১৯ লক্ষ ৭০ হাজার। অর্থাৎ ২০২১ সালে কোভিডে ঘোষিত মৃতের সংখ্যার চেয়ে তা প্রায় ছ’গুণ বেশি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে শোরগোল। এই ইস্যুতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে চেপে ধরতে চাইছে বিরোধীরা। কোভিড মৃত্যুর সরকারি তথ্যে গরমিল নিয়ে বুধবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডাকে চিঠি লিখেছেন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস। রাজ্যসভার এই সদস্যের বক্তব্য, জাতীয় স্তরে এটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। তথ্যের এই গরমিলের জন্য দায়ী কে, তা নির্ধারণ করে এবিষয়ে স্বচ্ছতা আনতে হবে। সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সালে কোভিড মৃত্যুর তথ্যে গরমিলের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে গুজরাত। ওই বছর মোদি-অমিত শাহের রাজ্যে কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা দেখানো হয়েছিল মাত্র ৫ হাজার ৮০০। কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গুজরাতে ওই বছর বাড়তি মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় দু’লক্ষ। অর্থাৎ গুজরাতে কোভিডে ঘোষিত মৃতের সংখ্যার চেয়ে তা প্রায় ৩৩ গুণ বেশি। মধ্যপ্রদেশে এই সংখ্যা ১৮ গুণ বেশি। পশ্চিমবঙ্গে বেশি ১৫ গুণ। ১০ গুণের বেশি বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড ও অন্ধ্রপ্রদেশে।
এবিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নাড্ডাকে লেখা চিঠিতে কোভিডে মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিজনদের এককালীন ৫০ হাজার
টাকা ক্ষতিপূরণের যে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছিল, তার সঠিক বাস্তবায়নের
দাবি তুলেছেন ব্রিটাস। সিপিএমের এই সাংসদ লিখেছেন, কোভিড মৃত্যু নিয়ে
চাঞ্চল্যকর এই নয়া তথ্য সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, পরিজন
হারানো সব পরিবার আদৌ সেই আর্থিক সাহায্য পেয়েছে কি না। এজন্য নাড্ডার
কাছে দেশজুড়ে অডিটের দাবি জানিয়েছেন ব্রিটাস।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন