নয়াদিল্লি: সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি পাকিস্তান সরকারের প্রশ্রয়ে চালিত হচ্ছে না। বরং জঙ্গি সংগঠনের সুপ্রিমোরাই ঠিক করে দিচ্ছে যে, পাকিস্তানের প্রশাসন ও সেনা কর্তারা কী নীতি নেবে। এমনকী কী বিবৃতি দেবে, সেটাও। অর্থাৎ হাফিজ সইদ এবং মাসুদ আজহাররাই এখন ইসলামাবাদের ‘ডি ফ্যাক্টো’ চালিকাশক্তি। নীতি নিয়ন্তা। পহেলগাঁও হামলার ঠিক পরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একের পর এক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছিল ভারত।
সবথেকে শক্তিশালী পদক্ষেপ ছিল, সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করে দেওয়া। এবং স্পষ্ট ঘোষণা করা যে, সিন্ধু নদের জল পাকিস্তানকে দেওয়া হবে না এক বিন্দুও। ঠিক তারপরই লাহোরে শুক্রবারের রুটিন জেহাদি সমাবেশে হাফিজ সইদ এবং তার পুত্র তালহা সইদ হুমকি দিয়েছিল, ‘ভারত যদি চিরতরে জল বন্ধ করে দেয়, আমরা ভারতের নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেব। রক্তবন্যা বইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’ বুধবার ইউনিভার্সিটি অব পাকিস্তানের এক অনুষ্ঠানে হুবহু ঠিক সেই মন্তব্যই করেছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। হাফিজ সইদের হুমকির একটি শব্দও এদিক ওদিক হয়নি। অর্থাৎ লস্কর-ই-তোইবার সুপ্রিমোর সন্ত্রাস সিলেবাসে যে বাক্য শিখিয়ে দিয়েছেন, সেটাই যেন পাকিস্তান সেনা তথা সরকার বলতে বাধ্য। আর সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে সেনা মুখপাত্রের বক্তব্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা-কর্মীদের সামনে তিনি সাফ বলেছেন, ‘ভারত আমাদের জল বন্ধ করে দিলে আমরা ভারতের শ্বাসরোধ করে দেব। রক্তবন্যা বইয়ে দেব।’
ভারত বহুবার বলেছে, স্টেট স্পনসর্ড টেররিজম বা রাষ্ট্রীয় মদতে
সন্ত্রাসবাদ চালায় পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক মঞ্চ, রাষ্ট্রসঙ্ঘ, নিরাপত্তা
পরিষদ সর্বত্র এনিয়ে স্পষ্ট অভিযোগ করেছে। জানিয়েছে, সরাসরি পাকিস্তান
সরকার, সেনা ও আইএসআইয়ের যোগসূত্র রয়েছে সন্ত্রাসে। জঙ্গিদের রিক্রুট,
প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা সবই করে থাকে ইসলামাবাদ। আর তাই বছরের পর বছর
হাফিজ সইদ, মাসুদ আজহাররা প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের ডাক দেয়।
জেহাদি নিয়োগ ও তাদের সীমান্তের এপারে পাঠিয়ে হামলার পরিকল্পনা চালিয়ে
যায়। এই অভিযোগ এতকাল ধরে উড়িয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ। দাবি করেছে, তাদের
মাটিতে দাউদ ইব্রাহিম নেই। হাফিজ সঈদ নাকি জেলবন্দি। সন্ত্রাসের প্রশ্ন
নেই। উল্টে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে পাকিস্তান সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। এই আজব
দাবি করে বারবার ভারতের কাছে অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণও চেয়েছে তারা। এবার
অপারেশন সিন্দুরের পর সেই প্রত্যক্ষ প্রমাণ সামনে এল।
পাক সেনা
মুখপাত্রের বক্তব্যের ভিডিও গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। হাফিজ এবং আহমেদ
শরিফের হুবহু এক হুমকির ভিডিও দেখে বিশ্ববাসী জানতে পারছে, ভারতের অভিযোগ
কতটা সত্য ছিল। সেনাকর্তার এই মন্তব্যই প্রমাণ যে, হাফিজ সইদই পাকিস্তানের
অ্যাজেন্ডা নিয়ন্ত্রক। এমনকী তার বলে দেওয়া ভাষণই সেনাকে উচ্চারণ করতে
হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, এই মোক্ষম প্রমাণ ভারত জানাবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের
নিরাপত্তা পরিষদে। এবং ফের আবেদন করা হবে, যাতে পাকিস্তানকে কোনওরকম
আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা বা অনুদান দেওয়া না হয়। কারণ, সেই টাকা যায়
লস্কর ও জয়েশ-ই-মহম্মদের কাছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অথবা সেনাপ্রধান
আসিম মুনির নয়। পাকিস্তানের প্রক্সি-শাসক হাফিজ সইদরাই।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন