কলকাতা: সাময়িক বিরতির পর ফের শুরু হচ্ছে আইপিএল। ঘোষিত হয়েছে পরিবর্তিত ক্রীড়াসূচি। বদলে গিয়েছে ভেন্যু। প্লে-অফের ম্যাচের দিন বদল হলেও কোথায় খেলাগুলি হবে, তা এখনও বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। তাতেই ক্ষেপেছে সিএবি। নতুন ক্রীড়াসূচিতে কেন দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ও ফাইনালের ভেন্যু হিসেবে ইডেনের নাম নেই, তা জানতে বোর্ডকে চিঠিও পাঠিয়েছে সিএবি।
আইপিএলের নিয়ম
অনুযায়ী গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল যে শহর থেকে প্রতিনিধিত্ব করে, সেখানেই হয়
ফাইনাল এবং প্লে-অফের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ। আর প্রথম কোয়ালিফায়ার ও
এলিমিনিটরের লড়াই হয় রানার্স দলের হোম গ্রাউন্ডে। ২০২৪ সালে ক্রোড়পতি
লিগে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কলকাতা নাইট
রাইডার্স। তাই ফাইনাল সহ দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার হওয়ার কথা ইডেনে। সেই মতো
ক্রীড়াসূচি ঘোষিত হয়েছিল। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে আইপিএল
স্থগিত করা হয়। তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর টুর্নামেন্টের নতুন করে নির্ঘণ্ট
প্রকাশ করেছে বিসিসিআই। আর তাতেই ইডেন থেকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ও ফাইনাল
ম্যাচ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শোনা যাচ্ছে, এই
দু’টি ম্যাচের জন্য আমেদাবাদকে বেছে নিয়েছে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। তবে
ঠিক কী কারণে ইডেন থেকে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা তা স্পষ্ট নয়।
বোর্ডের একাংশ বলছে, বর্ষা যেহেতু এবার দেশে তাড়াতাড়ি প্রবেশ করছে,
সেক্ষেত্রে কলকাতায় জুনের ৩ তারিখ ফাইনাল করা ঝুঁকিপূর্ণ। আর এতেই চটেছেন
সিএবি কর্তারা। বাংলার সঙ্গে বঞ্চনার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। তবে
সরকারিভাবে এখনও আইপিএল প্লে-অফের দিনক্ষণ ঘোষণা না হওয়ায় সিএবি কর্তারা
সহজে হাল ছাড়তে নারাজ। সংস্থার সভাপতি স্নেহাশিস গাঙ্গুলি বোর্ড সচিবকে
চিঠি পাঠিয়েছেন বলেও খবর। শুধু তাই নয়, দেশের হাওয়া অফিসের কাছে সিএবি
জানতে চেয়েছিল, জুনের প্রথম সপ্তাহে কি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতায়?
তার উত্তরে নাকি হাওয়া অফিস জানিয়েছে, খুব বেশি হলে এক সপ্তাহের পূর্বাভাস
দেওয়া সম্ভব। এত তাড়াতাড়ি জুনের প্রথম সপ্তাহে আবহাওয়া কেমন থাকবে কলকাতায়,
তা বলা কঠিন। আর এটাকেই হাতিয়ার করে সিএবি নাকি বোর্ড সচিবকে চিঠি পাঠিয়ে
চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। এমনকী, সিএবি কর্তারা আইপিএল ফাইনাল সরিয়ে নিলে
আদালতে যাওয়ার হুমকিও দিচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, আইপিএল নিয়ে রাজনীতি
হচ্ছে।
কারণ, গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলি হচ্ছে রাজস্থান, গুজরাতের মতো
সীমান্ত রাজ্যে। আর আবহাওয়া বা বৃষ্টি যদি ইস্যু হয়, তাহলে ২০২৩ সালে
আমেদাবাদে তো ম্যাচ করাই উচিত ছিল না? এক্ষেত্রে সিএবি’র উদাহরণও একেবারেই
উড়িয়ে দেওয়ার নয়। কারণ, সেবার ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২৮ মে সন্ধ্যা
সাড়ে সাতটায়। কিন্তু বৃষ্টির কারণে খেলা গড়িয়েছিল রিজার্ভ ডে’তে। সেদিনও
মাঠের কন্ডিশন খারাপ থাকায় শেষ পর্যন্ত ৩০ মে রাত ১-৩৫ মিনিটে খেলা শেষ
হয়েছিল। সেদিক থেকে ইডেনের পরিকাঠামো নিঃসন্দেহে উন্নত। গোটা মাঠ কভার
থাকে। বৃষ্টি বন্ধের আধ ঘণ্টার মধ্যে খেলা শুরু করে দেওয়ার নজির রয়েছে।
তাহলে বৃষ্টির অজুহাতে ইডেন থেকে পঁচিশের আইপিএল সরিয়ে নেওয়া হলে, ভারতীয়
ক্রিকেটের এক কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন