নয়াদিল্লি: পেশায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। কিন্তু নেশায় মৃত্যুদূত, সিরিয়াল কিলার। উত্তরপ্রদেশের ‘ডক্টর ডেথ’ বলে পরিচিত সেই সিরিয়াল কিলার দেবেন্দ্র শর্মাকে শেষপর্যন্ত গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিস। রাজস্থানের দৌসার একটি আশ্রম থেকে সোমবার তাকে পাকড়াও করা হয়েছে। গত বছর প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর সে আর তিহার জেলে ফেরেনি। বিভিন্ন শহর ঘুরে ঘুরে সম্প্রতি ডেরা বেঁধেছিল দৌসার
একটি আশ্রমে। সেখানে আবার নাম ও পরিচয় ভাঙিয়ে রীতিমতো পুরোহিত সেজে বসেছিল। তবে শেষ রক্ষা হল না।
৬৭ বছর বয়সি দেবেন্দ্র শর্মার অপরাধের বহর কম নয়। দিল্লি পুলিসের তরফে জানানো হয়েছে, তার অপরাধে হাতেখড়ি গত শতাব্দীর নয়ের দশকেই। ১৯৯৪ সালে রান্নার গ্যাসের ডিলারশিপ নিয়ে আর্থিক সঙ্কটে পড়ে গিয়েছিল দেবেন্দ্র। এরপর মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চোরা কারবারে সে হাত পাকায়। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত চলেছিল তার এই কারবার। স্থানীয় চিকিৎসক এবং দালালদের সঙ্গে মোট ১২৫টি বেআইনি অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সঙ্গে সে যুক্ত ছিল।
সেই কারবারে হাত পাকাতে গিয়েই দেবেন্দ্র হয়ে ওঠে সিরিয়াল কিলার। পুলিস জানিয়েছে, ট্যাক্সি চালকদের ট্রিপের জন্য ডাকত দেবেন্দ্র এবং তার শাগরেদরা। এরপর তাঁদের খুন করে কুমির অধ্যুষিত হজরত ক্যানালে ভাসিয়ে দিত। আর গাড়িগুলি বিক্রি করে দিত। খুন, অপহরণ এবং ডাকাতির ২৭টি মামলা রয়েছে দেবেন্দ্রর বিরুদ্ধে। কিডনি পাচার র্যাকেটের সঙ্গে যোগসাজশ এবং সিরিয়াল কিলিংয়ের অভিযোগে ২০০৪ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দিল্লি, রাজস্থান এবং হরিয়ানার বিভিন্ন আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় দেবেন্দ্রকে। গুরুগ্রামের একটি আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডও দিয়েছে।
.jpeg)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন