নয়াদিল্লি: সীমান্তে উত্তেজনার
জেরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছিল জম্মু ও কাশ্মীরে। পরিস্থিতি
স্বাভাবিক হওয়ায় বুধবার থেকে খুলে গেল স্কুল-কলেজ। দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলায়
উচ্ছ্বাস ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। বারামুলার একটি স্কুলে পড়ুয়া তালিব দারকে
তো আনন্দে রীতিমতো লাফাতে দেখা গেল। সে জানায়, ‘কতদিন পর বন্ধু ও শিক্ষকদের
সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হল! সংঘর্ষবিরতি হওয়ায় আমাদের স্কুল খুলল। এবার আমরা
পড়াশোনায় মন দিতে পারব।’ স্কুল শিক্ষক জাহুর আহমেদও মনে করেন, উপত্যকায়
শান্তি প্রতিষ্ঠা দরকার। তিনি বলেন, ‘পড়ুয়ারা স্কুলে আসতে পারছে। এটা বড়
পাওনা। সবাই এখন বুঝতে পারছেন, শান্তি না এলে উন্নয়ন এবং অগ্রগতি অসম্ভব।’
গোলাগুলি
ভুলে কাশ্মীর উপত্যকা যখন ছন্দে ফিরছে, তখন কিছুটা বিপরীত চিত্র
রাজস্থানে। বুধবার ফের হুমকি এসেছে, জয়পুরের সোয়াই মানসিং স্টেডিয়াম বোমা
বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হবে। একই রকম হুমকি ইমেল পেয়েছে প্রতাপগড় মিনি
সেক্রেটারিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং বারান ডিস্ট্রিক্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।
মরু রাজ্যে গুপ্তচরবৃত্তির সম্ভাবনার আশঙ্কা করে একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে
প্রশাসন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জয়সলমির এবং শ্রীগঙ্গানগরে
পাকিস্তানি সিম কার্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সীমান্ত এলাকায়
মোবাইল টাওয়ারগুলির রেঞ্জ বাড়িয়েছে পাকিস্তান। এরপরই এই ব্যবস্থা বলে
জানিয়েছেন জয়সলমিরের জেলাশাসক প্রতাপ সিং। আন্তর্জাতিক সীমান্তের ৫০
কিলোমিটারের মধ্যে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। রাজ্যের বহিরাগত বাসিন্দাদের
গতিবিধিও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। স্পর্শকাতর এলাকায় হাই অ্যালার্টে রয়েছে
বিএসএফ এবং স্থানীয় পুলিস।
শনিবারের সংঘর্ষবিরতির পরও ড্রোন উড়ে আসতে
দেখেছে রাজস্থানের বারমেরের বাসিন্দারা। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষকে ড্রোন
নিয়ে সতর্ক করতে কর্মশালা সারে বিএসএফ। বিএসএফের ডেপুটি কমান্ডার
(ইন্টেলিজেন্স) মহেশ চন্দ্র জাট বলেন, ‘আমাদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।
মানুষের জানা উচিত কীভাবে ড্রোন কাজ করে। এগুলির বিপদ সম্পর্কেরও জানানো
হয়।’ জয়পুর, আলওয়ার, ভরতপুর, কোটা এবং আজমেরকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত
করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন