নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরেই ঘটনার সঙ্গে যে পাকিস্তানের সরাসরি যোগ রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পাক প্রতিরক্ষমন্ত্রী খোয়াজা আসিফ স্বয়ং সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়ায় ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগ মান্যতা পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ভারতবিরোধী কার্যকলাপ তো বটেই, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গেও পাক যোগের প্রমাণ রয়েছে। এক্ষেত্রে ২০১১ সালে অ্যাবোটাবাদে আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের লুকিয়ে থাকার ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন তাঁরা। ২৬/১১ মুম্বই হামলার চক্রী তথা লস্কর-ই-তোইবা প্রধান হাফিজ সইদের পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকার প্রমাণ থাকলেও তা সরকারিভাবে স্বীকার করেনি ইসলামাবাদ। তবে খোয়াজা আসিফের আগেও পাক রাজনীতিকরা কার্যত সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। যেমন—নওয়াজ শরিফ। তিনি মেনে নিয়েছিলেন, পাক সরকার ২০০৮ সালে মুম্বই জঙ্গি হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। পারভেজ মুশারফও স্বীকার করেছিলেন, কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তার বাহিনী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল।
ওই কেন্দ্রীয় সূত্রের মতে, শুধু মুম্বই হামলা নয়,
২০০৮ ও ২০১১ সালে কাবুলে ভারতীয় ও মার্কিন দূতাবাসে হামলা, ২০২৪ সালে
মস্কোর কনসার্ট হল ও ২০০৫ সালে লন্ডনে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের সঙ্গেও
পাকিস্তানের যোগ রয়েছে। প্রত্যেক ঘটনাতেই হয় হামলাকারীরা পাকিস্তানে
প্রশিক্ষণ নিয়েছিল, অথবা হামলার পর সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। পাকিস্তানের
গোয়েন্দা বাহিনী আইএসআই যে আফগান তালিবান এবং হাক্কানি নেটওয়ার্ক গোষ্ঠীর
জঙ্গিদের আর্থিক সাহায্য করেছে, প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ
আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার প্রচুর তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। বাংলাদেশে ২০১৬ সালে
হামলা চালায় জেএমবি জঙ্গিরা। সেই জঙ্গিদেরও আর্থিক সাহায্য করা,
প্রশিক্ষণের বিষয়ে আইএসআই ও পাক কূটনীতিকরা সরাসরি যুক্ত ছিল। কিন্তু
ইসলামাবাদ কোনও ঘটনাতেই নিজেদের ভূমিকা মানেনি।
বিশ্বব্যাপী জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগ থাকার কথা পাকিস্তান অস্বীকার করলেও পহেলগাঁওয়ে হামলার পর ভারত আর সেই যুক্তিতে ভুলছে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ওই সূত্রটি। দাবি, ইসলামাবাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতাতেই যে পাক সেনার সদস্যরা জঙ্গি নেতায় পরিণত হচ্ছে, তা এখন কঠোর বাস্তব। এই জঙ্গি নেতারাই দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে এখন সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া পাক ভূখণ্ডে লস্কর, জয়েশ সহ একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠীকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও টাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। ওই ক্যাম্পগুলিতে অস্ত্র ও আত্মঘাতী হামলার জন্য প্রশিক্ষণও দেয় অবসরপ্রাপ্ত পাক সেনারা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন