আর্সেনাল- ০ : পিএসজি- ১ (ডেম্বেলে)
লন্ডন: বার্সেলোনায় তিনি ছিলেন চূড়ান্ত
ফাঁকিবাজ। অপেশাদারিত্বের জেরে বারবার সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ওসুমানে
ডেম্বেলেকে। পরিস্থিতি এতটাই হাতের নাগাল থেকে বেরিয়ে যেতে থাকে যে,
তৎকালীন কোচ জাভি হার্নান্ডেজ দিনের পর দিন তাঁকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন। তাই
ক্ষোভে গত মরশুমে মাঝপথেই দল ছাড়েন এই ফরাসি ফুটবলার। যোগ দেন স্বদেশীয়
ক্লাব পিএসজি’তে। আর প্যারিসে লুই এনরিকের প্রশিক্ষণে যেন পুনর্জন্ম পান
ডেম্বেলে। কিলিয়ান এমবাপে দল ছাড়ার পর বর্তমান তিনিই এখন পিএসজি’র
আপফ্রন্টের মূল ভরসা। চলতি মরশুমে ইতিমধ্যেই ৪৫ ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে
৩৩টি লক্ষ্যভেদ। তবে তার মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি এল মঙ্গলবার
রাতে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে তাঁর একমাত্র
গোলে অ্যাওয়ে ম্যাচে মূল্যবান জয় তুলে নিল পিএসজি। সেই সঙ্গে ফাইনালের পথে
এক পা বাড়িয়ে রাখল লুই এনরিকে ব্রিগেড। পক্ষান্তরে, ঘরের মাঠে হেরে খেতাব
নির্ণায়ক ম্যাচের পথটা কঠিন করল গানাররা। আগামী ৭ মে ফিরতি পর্বে পার্ক দ্য
প্রিন্সেসে ফের মুখোমুখি হবে দু’দল। ফাইনালে পৌঁছতে হলে সেই ম্যাচে
দু’গোলের ব্যবধানে জিততে হবে আর্সেনালকে। এক গোল হলে ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত
সময়ে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আসরে পিএসজি’র বিরুদ্ধে অপরাজিত থেকেই
মঙ্গলবার ঘরের মাঠে খেলতে নেমেছিল আর্সেনাল। চলতি মরশুমে গ্রুপ পর্বে
এমিরেটসে পিএসজি’কে ২-০ গোলে হারিয়েছিল আর্তেতা ব্রিগেড। তবে সেমি-ফাইনালে
উলটপুরাণ। মঙ্গলবার ম্যাচের শুরুতেই লিড নেয় পিএসজি। বক্সের বাঁদিক থেকে
খভিচা কভারাতসখেলিয়ার পাস থেকে দুরন্ত প্লেসমেন্টে জাল কাঁপান ডেম্বেলে
(১-০)। এরপর ম্যাচের বাকি সময় একাধিক সুযোগ পেয়েও পিএসজি’র রক্ষণে ফাঁটল
ধরাতে ব্যর্থ সাকা-মার্তিনেল্লিরা। এই পর্বে বেশ কয়েকবার দলের নিশ্চিত পতন
আটকান ডোনারুমা। শেষ আটের লড়াইয়ে রিয়ালের বিরুদ্ধে দু’পর্বে আর্সেনালের
জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন ডেকলান রাইস। মঙ্গলবার তাঁকে বেশ নিষ্প্রভ দেখায়।
ঘরের
মাঠে হারের ফলে ফাইনালের পথটা বেশ কঠিন হয় আর্সেনালের। তবে ফিরতি পর্বে দল
ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদী কোচ আর্তেতা। তিনি বলেন, ‘জানি লড়াইটা কঠিন। তবে
প্যারিসে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আর ছেলেদের পক্ষে সেটা সম্ভব।’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন