কলকাতা: ভর দুপুরে কলকাতা শহরের এন্টালির ফিলিপস মোড়ে দুঃসাহসিক লুটপাট! অভিযোগ, এক বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের কাছ থেকে দুষ্কৃতীরা প্রায় দু’কোটি ৬৬ লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে গিয়েছে। সোমবার দুপুর পৌনে ১২টা নাগাদ এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর স্থানীয় এন্টালি থানার পাশাপাশি লালবাজারের ডাকাতি দমন শাখার গোয়েন্দারা একযোগে তদন্তে নেমেছেন। আপাতত বেসরকারি সংস্থার দুই কর্মীকে এন্টালি থানায় আটক করে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ডাকাতির ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি কলকাতা পুলিস।
প্রাথমিক তদন্তে লালবাজার জানতে পেরেছে, ১১৮ নম্বর এস এন
ব্যানার্জি রোডের ফোরেক্স বা বিদেশি মুদ্রা লেনদেনকারী সংস্থার দুই কর্মী
ট্যাক্সিতে চেপে টাকা নিয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের পার্ক সার্কাস
শাখায় জমা করতে যাচ্ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, ট্যাক্সি এন্টালির ফিলিপস মোড়ে
সিগন্যালে দাঁড়াতেই দুই দুষ্কৃতী জোর করে ট্যাক্সিতে উঠে পড়ে। এরপর
দুষ্কৃতীরা ট্যাক্সি চালককে কামারডাঙার একটি সরু লেনে নিয়ে যেতে বাধ্য করে।
সেখানে যাওয়ার পর ভয় দেখিয়ে ট্যাক্সির ডিকিতে রাখা ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা
নিয়ে পালিয়ে যায়।
ভরদুপুরে এন্টালি থানা এলাকার সিআইটি রোডে এই বিপুল
পরিমান টাকা লুটের ঘটনায় বেশ কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গিয়েছে বলে
লালবাজারের এক সূত্র জানাচ্ছে। প্রথমত, এন্টালির ফিলিপস মোড়ের মতো ব্যস্ত
তথা যানজট প্রবণ এলাকায় এতবড় ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও, তার কোনও
প্রত্যক্ষদর্শীর খোঁজ মেলেনি! দ্বিতীয়ত, ট্যাক্সির ডিকিতে করে এই বিপুল
পরিমান টাকা ব্যাঙ্কে পাঠানো হচ্ছে, তা দুষ্কৃতী দল জানল কী করে? তবে কি
ওই ফরেক্স সংস্থার কেউ দুষ্কৃতী দলটিকে খবর পাচার করেছে? তৃতীয়ত, সিআইটি
রোডের মতো রাস্তা ধরে দুপুর পৌনে ১২টা নাগাদ একাধিক ট্যাক্সি যাওয়াটাই
স্বাভাবিক। ফলে তদন্তে প্রশ্ন উঠছে, ফিলিপস মোড়ের এত যানবাহনের মধ্যে টাকা
বোঝাই ট্যাক্সিটিকে দুষ্কৃতীরা চিহ্নিতই বা করল কী করে?
দুষ্কৃতীরা
সংখ্যায় মোট ক’জন ছিল? তারা আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোনও হাতিয়ার ব্যবহার
করেছিল কি না? ফিলিপস মোড়ে দু’জন বহিরাগত জোর করে ট্যাক্সিতে ওঠে পড়লেও,
কেন ওই ফরেক্স সংস্থারা কর্মীরা বাধা দিলেন না বা চিৎকার করে পুলিসের
সাহায্য চাইলেন না, তা নিয়েও গোয়েন্দাদের মনে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে।
পাশাপাশি তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সম্প্রতি ওই বেসরকারি সংস্থার কোনও
কর্মীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছিল কি না! আপাতত তদন্তের স্বার্থে এনিয়ে
বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করেছে লালবাজার। এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে, কলকাতা
পুলিসের ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার বলেন,‘তদন্ত চলছে। তদন্ত
শেষে বিস্তারিত জানানো সম্ভব।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন