বারাসত: ‘করে খাওয়ার দিন শেষ!’ ক’দিন আগেই প্রশাসনিক বৈঠকে এই বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি ‘ভেস্টেড ল্যান্ডে’র কত অংশে ভেড়ি রয়েছে, তার পরিমাণ এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে জেলাশাসকদের। সরকারি হিসেব বলছে, উত্তর ২৪ পরগনায় ৪৬,২২৬ একর সরকারি জমি আছে। এর মধ্যে বাধামুক্ত ২৪,৮৩২ একর। বাকি প্রায় ২২ হাজার একরের মতো সরকারি জমি ‘বেহাত’ হয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর মধ্যে সিংহভাগ জমিতেই ভেড়ি বানিয়ে মাছ চাষ চলছে। এইসব জমি পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে রীতিমতো ‘ফাঁপরে’ পড়েছে দপ্তর। কারণ বেশিরভাগ জমিই দখল করে রেখেছেন শাসকদলের নেতারা। তবে, এ নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জেলা প্রশাসনের এক কর্তা।
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে দ্রব্যমূল্য
বৃদ্ধির আশঙ্কাকে ঘিরে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সুফল বাংলার স্টল নতুন করে সক্রিয় করার বার্তা
দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও মাছ-মাংসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন
তিনি। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যে যার মতো সরকারি জমি দখল করে
মাছচাষ করছেন এবং তা বাজারে বিক্রি করছেন। এতে সরকারের লাভ হচ্ছে না।
সরকারি কোষাগারে কোনও টাকাও ঢুকছে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে উপযুক্ত
পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, সরকারি জমিতে
থাকা ভেরি নিলাম করার জন্য আইন জারি করা হবে। বেহাত হওয়া ভেড়ির পরিমাণ সব
থেকে বেশি হাড়োয়া ও মিনাখাঁ বিধানসভা এলাকায়। দপ্তর সূত্রে খবর, হাড়োয়ায়
সরকারি জমির পরিমাণ ৪,৭২৫ একর। অন্যদিকে, হাসনাবাদ ব্লকে রয়েছে ২,৬৮৬ একর।
এই জমির সিংহভাগই দখল হয়ে গিয়েছে ভেড়ির জন্য। ঠিক কত পরিমাণ জমি বেদখল,
সেই রিপোর্ট জেলাশাসকের দপ্তরে নেই। একই পরিস্থিতি মিনাখাঁর ক্ষেত্রে।
সেখানে সরকারি জমি রয়েছে ২,৪১৫ একর। তার মধ্যে মাত্র তিন একর জমি দখলমুক্ত
রয়েছে। অন্যদিকে, বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকে ৪২০ একর সরকারি জমি রয়েছে। তার
মধ্যে মাত্র ৮৮ একর দখলমুক্ত। তবে, সন্দেশখালি বিধানসভা কেন্দ্রের দু’টি
ব্লকে সরকারি জমি কম দখল হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন