নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুর শুরুর আগে পাকিস্তানকে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্যের একটি ভিডিও পোস্ট করে এমনই দাবি করেছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তুলেছিলেন একাধিক প্রশ্ন। তাঁর এই দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছিল বিদেশ মন্ত্রক। এনিয়ে চাপানউতোরের মধ্যে সোমবার বিদেশমন্ত্রী জানালেন, অপারেশন সিন্দুর শুরুর আধঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানকে জানানো হয়েছিল। একটি সংসদীয় উপদেষ্টা কমিটিকে বিদেশমন্ত্রী একথা বলেছেন বলে সূত্রের খবর। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাগাতার মধ্যস্থতার দাবির বিষয়ে বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেছেন, পাকিস্তানের কাছ থেকেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এসেছিল। দু’দেশের মধ্যে সরাসরি কথাবার্তার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
পহেলগাঁওয়ে নারকীয় জঙ্গি হামলার পর গত ৭ মে অপারেশন সিন্দুর শুরু করে ভারত। এই ঘটনা ঘিরে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সংঘাত তুঙ্গে ওঠে। পরে ১০ মে যুদ্ধবিরতিতে সহমত হয় দুই দেশ। এদিন বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় পরামর্শদাতা কমিটিতে অপারেশন সিন্দুর ও পাক মদতপুষ্ট সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর অনুযায়ী বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, অপারেশন সিন্দুর শুরুর আধ ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে ভারত শুধু পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ন’টি জঙ্গিঘাঁটি নিশানা করেই হামলা চালিয়েছে। উত্তেজনার পারদ যাতে না চড়ে, সেজন্যই এই পদক্ষেপ।
ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, তাঁর মধ্যস্থতাতেই ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি হয়েছে। এব্যাপারে জয়শঙ্কর বলেছেন, কয়েকটি অক্ষরে ভারত অবস্থান জানিয়ে দিয়েছিল। বলা হয়েছিল,‘ওরা গুলি চালালে আমরাও জবাব দেব। ওরা থামলে আমরাও থামবো।’ মার্কিন বিদেশ সচিব গোয়েন্দা সূত্র উল্লেখ করে পাকিস্তানের বড়সড় পাল্টা হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তখন তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়, পাকিস্তান যদি এমন কিছু করে তাহলে ভারত ছেড়ে কথা বলবে না। ইসলামাবাদই যে প্রথমে যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন