নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারজল এলাকা। গ্রামের নাম তেহরা কালান। এমনিতে গ্রামাঞ্চলের আর পাঁচটা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের থেকে আলাদা কিছু বলে মনে হবে না। কিন্তু সেই তথাকথিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আড়ালেই চলত জয়েশ-ই-মহম্মদের কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক। অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের সঙ্গে তাদের পাক প্রভুর যোগাযোগের ‘সেতুবন্ধন’ করত এই গোপন নেটওয়ার্ক সিস্টেম। ‘অপারেশন সিন্দুর’ গুঁড়িয়ে দিয়েছে জয়েশের সেই ডেরাও।
ভারতীয় নিরাপত্তা
বাহিনীর দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা হয়ে উঠেছিল সারজল এলাকায় জয়েশের গোপন এই
কমিশনিকেশন নেটওয়ার্ক। সেখানে ছিল হাই ফ্রিকোয়েন্সি (এইচএফ) কমিউনিকেশন
সেট-আপ। হাই ফ্রিকোয়েন্সি ট্রান্সমিশনের জন্য ছিল উঁচু একটি অ্যান্টেনা।
অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা ও জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার কাজে খুবই
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত শাকারগড়ের সারজল এলাকায় অবস্থিত এই ক্যাম্প।
জঙ্গিদের সেই পরিকাঠামো ধ্বংস করে দিতেই ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর অন্তর্গত
হিটলিস্টে রাখা হয়েছিল এই শিবিরকে। সূত্রের খবর, এই ক্যাম্পের জন্য
প্রয়োজনীয় মিলিটারি-গ্রেড কমিউনিকেশন সরঞ্জাম সরবরাহ করত পাকিস্তানের
সেনাবাহিনী ও গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। এর মধ্যে রয়েছে এলওআরএ (লং রেঞ্জ)
আলট্রা সেট ও ডিজিটাল মোবাইল রেডিও (ডিএমআর)।
ফলে চিরাচরিত সাধারণ টেলিকম নেটওয়ার্ক ছাড়াই হ্যান্ডলারদের সঙ্গে আনায়াসে যোগাযোগ রেখে চলতে পারে জঙ্গিরা। পাকিস্তান সেনার জন্য এই আল্ট্রা সেটগুলি বিশেষভাবে তৈরি করে চীনের উৎপাদক সংস্থা। ফলে সাধারণ জিএসএম বা সিডিএমএ রেডিও ফ্রিক্যুয়েন্সি ব্যান্ডের সাহায্য ছাড়াই এগুলি কাজ করতে পারে। এই কমিউনিকেশন সেটগুলি রেডিও ওয়েভের মাধ্যমে পাকিস্তানের কন্ট্রোলরুমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। ট্রান্সমিশনের কাজে ব্যবহার করা হয় চীনা স্যাটেলাইট। ঘটনাচক্রে, এরকম দু’টি সেটের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব নয়। সেই ‘সেতুবন্ধনে’র কাজই চলত সারজলের ক্যাম্প থেকে। সেখান থেকেই জঙ্গিদের কাছে চলে যেত গোপন বার্তা। এবার সেই কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কই ধ্বংস করে দিল ভারতীয় বাহিনী।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন