‘জি স্যার’, কথার টানেই পুলিসের জালে আজাদ, বাংলাদেশিদের আশ্রয় দিয়ে ভারতীয় নথি তৈরিই ব্যবসা জাফরের - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫

‘জি স্যার’, কথার টানেই পুলিসের জালে আজাদ, বাংলাদেশিদের আশ্রয় দিয়ে ভারতীয় নথি তৈরিই ব্যবসা জাফরের

 


কলকাতা: গত ১৮ মে সকালে নিউ আলিপুর এলাকায় ডিউটিতে যাচ্ছিলেন রিজেন্ট পার্ক থানার এএসআই সুষেন দাস। সদানন্দ রোডের কাছে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি গাড়ি তাঁর বাইকে ধাক্কা মারে। গুরুতর জখম হন এএসআই। দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে পুলিস। গাড়ির চালক আজাদ শেখকে পুলিস জিজ্ঞাসা করে, ‘আপনি ধাক্কা মেরেছেন?’ উত্তরে চালক বলে, ‘জি স্যার’। আরও কিছু প্রশ্নেরও জবাব দেয় সে। তার কথার টানেই তাকে বাংলাদেশি বলে সন্দেহ হয় পুলিসের। পরে তদন্তকারীদের কাছে সে স্বীকার করে নেয়, এখনও সে এখানকার উচ্চারণ রীতি রপ্ত করে উঠতে পারেনি। একটা টান রয়েই গিয়েছে। জানা যায়, ভুয়ো নথি দিয়ে সে ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করিয়েছে। এখান থেকেই তদন্ত নতুন মোড় নেয়।

 
আজাদের নথিপত্র খতিয়ে দেখা শুরু হয়। আধার কার্ডের নথি থেকে স্পষ্ট হয়, ন্যাজাটের বাসিন্দা জাফর আলি শেখ এবং আজাদের বাবার নাম একই। কিন্তু কোন নথির ভিত্তিতে জাফরের বাবাকে নিজের বাবা সাজিয়ে আজাদ আধার কার্ড তৈরি করাল? তদন্তকারীরা জেনেছেন, বাংলাদেশিদের আশ্রয় দিয়ে ভারতীয় নথি তৈরি করে দেওয়াই জাফরের ব্যবসা। আজাদের পরিবার রয়েছে বাংলাদেশের ফরিদপুরে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে কাজকর্মের অবস্থা খুব খারাপ। আজাদ পুলিসের কাছে দাবি করে, সে গাড়ি চালাতে জানত আগে থেকেই। দালালকে ধরে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসে। ওই দালালই তাকে বলে, তার ভারতীয় পরিচয় পেতে কোনও অসুবিধা হবে না। ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ পড়বে। তারপর ওই দালালই তার পরিচিত জাফর আলি শেখকে সব ব্যবস্থা করতে বলে দেয়। 

জাফর রাজি হলে তার বাবার নাম-ঠিকানা সহ সমস্ত নথি নেয় সন্দেশখালির এক দালাল। সেই দালালই জাফরের বাবার পরিচয় ব্যবহার করে আজাদের আধার কার্ড বের করে দেয় বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা। আরও জানা গিয়েছে, আধারটি আসল হলেও সেটি তৈরির জন্য যে নথি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি জাল। যে আধার সেন্টার থেকে এই কার্ড ইস্যু হয়েছিল এবং যাঁরা আজাদের ছবি তুলেছিলেন, তাঁদের বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করেছে পুলিস। এসব নথির ভিত্তিতে আজাদ কলকাতায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও খুলেছিল। সেটি ‘ফ্রিজ’ করার জন্য ব্যাঙ্ককে আবেদন করা হয়েছে। সন্দেশখালির দালালই জাল নথি তৈরির অন্যতম পান্ডা বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। 

সূত্র মারফত তাঁরা জেনেছেন, অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানো ধুর পার্টি বাংলাদেশিদের এই দালালের কাছে নিয়ে আসছে। সেখানকার পঞ্চায়েত থেকে তৈরি হচ্ছে জন্মের শংসাপত্র, ভোটার ও আধার সহ বিভিন্ন নথি। এগুলির ভিত্তিতে পরে ভারতীয় পাসপোর্টও হয়ে যাচ্ছে অনুপ্রবেশাকারীদের। কিন্তু সন্দেশখালিতে অভিযান চালিওেয় ওই দালালের হদিশ পায়নি কালীঘাট থানা। তাকে পাকড়াও করা গেলে জাল ভারতীয় নথি তৈরির চক্রের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের কাদের যোগসাজশ রয়েছে, জানা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তদন্তকারীরা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন