বনগাঁ: রেডিমেড পোশাকসহ বেশকিছু পণ্য স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত। এই বিষয়ে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রক শনিবার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। শুধুমাত্র নবসেবা ও কলকাতা সমুদ্র বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। বাংলাদেশ থেকে রেডিমেড পোশাক আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় পেট্রাপোল সীমান্তে বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে। বন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ১৫টি পণ্য বোঝাই ট্রাক বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসত। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পেট্রাপোল শুল্কদপ্তরের ডেপুটি
কমিশনার দিব্যেন্দু দাস বলেন, ‘রেডিমেড পোশাক আমদানি বন্ধের নির্দেশিকা
জারি হওয়ায় প্রভাব পড়বে পেট্রাপোল বন্দরে। সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে পোশাক
আমদানিতে যেমন খরচ বাড়বে তেমনি সময় বেশি লাগবে।’
এই বিষয়ে
পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সম্পাদক কার্তিক
চক্রবর্তী বলেন, ‘পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সরকার যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তা
আমাদের মানতেই হবে।’ পেট্রাপোল এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ওয়েলফেয়ার
এসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রদীপ দে বলেন, ‘পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে রেডিমেড
পোশাক আমদানি বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা সমস্যায় পড়বেন।’
বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের দাবি, ভারতের এই বিধিনিষিধে দেশের রপ্তানি
ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বেনাপোল বন্দর সূত্রের খবর, সেখানে রেডিমেড পোশাক বোঝাই
৩৬টি ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। এমতবস্থায় সেগুলি ভারতে রপ্তানি না করতে পারায়
ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ভারত স্থলবন্দর দিয়ে গার্মেন্টস সামগ্রী আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বেনাপোল স্থলবন্দরে ৩৬টি গার্মেন্টস বোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। এখন জলপথে পণ্য রপ্তানি করতে খরচ ও সময় বেড়ে যাবে।’পেট্রাপোলের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ি স্থলবন্দর এবং অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামে স্থলবন্দর দিয়ে একাধিক বাংলাদেশি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বাংলাদেশ প্রায় ১৫৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে ভারতে। এর মধ্যে পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যই বেশি। এছাড়া প্লাস্টিক পণ্য ও আসবাব রপ্তানি হয়েছে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি বাতিল করেছে ভারত। দেশের একাধিক বন্দর দিয়েও পণ্য আমদানিতে জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছে বাণিজ্য মহল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন