শিলিগুড়ি: দৃশ্য-১, সকাল ৬টা। মেঘমুক্ত আকাশ। তখনই সূর্যের তাপে রাস্তা যেন পুড়ছে। এমন অবস্থায় হাকিমপাড়ার বাড়ি থেকে প্রাতর্ভ্রমণে বের হন গোপাল দাস। মাঝবয়সি ওই ব্যক্তি স্বামীজি মোড় পর্যন্ত হেঁটেই হাঁপিয়ে যান। একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে বসেন। তখন সেখানে আরও কিছু লোকের জটলা ছিল। হাঁপাতে হাঁপাতে গোপালবাবু বলেন, বিদায় বেলায় দাপট দেখাচ্ছে গ্রীষ্ম ঋতু। গরমে আর টেকা যাচ্ছে না।
দৃশ্য-২, বেলা সাড়ে ১২টা। মাথার উপর সূর্য গনগন করছে। তখন হিলকার্ট রোড কার্যত শুনশান। সেভক মোড়ের কাছে ঠান্ডা পানীয়র দোকানে বেশকিছু যুবকের জটল। কারও হাতে কোল্ড ড্রিঙ্কস, কারও হাতে লস্যি, আবার কারও হাতে সরবতের গ্লাস। সকলের মধ্যেই গরমের দাপট নিয়ে আলোচনা। তাঁদের বক্তব্য, এবার বৈশাখ মাসে গরমের তেমন দাপট দেখা যায়নি। জ্যৈষ্ঠ মাস শেষ হওয়ার মুখে যেন ঝোড়ো ইনিংস খেলছে গ্রীষ্ম। এখন দহনে কার্যত জ্বলছে গোটা এলাকা।
রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এ ধরনের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। গরমের এমন দাপট আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পের জোগান নেই। মেঘমুক্ত আকাশ। এতেই আপাতত দুর্বল হয়েছে পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। এজন্যই দিনের তাপমাত্রা হু হু করে বাড়ছে। বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি করে বৃষ্টি হলেও গরমের থেকে তেমন স্বস্তি মিলবে না। এমন আবহাওয়া আরও তিন-চারদিন থাকবে।
গরমের দাপটে হাঁসফাঁস করছে গোটা শিলিগুড়ি। এদিন এখানকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্থানীয়রা বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের আগে বর্ষা প্রবেশ করায় মনে হয়েছিল, এবার এখানে তেমন গরম পড়বে না। এখন খেলা দেখাচ্ছে গরম। সকাল ৭টাতেই রিজার্ভারের জল গরম হয়ে যাচ্ছে। দুপুরে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের হওয়া যাচ্ছে না। যারা বের হচ্ছেন, গরম থেকে বাঁচতে তাঁদের হাতে গ্লভস, মাথায় টুপি ও ছাতা থাকছে। মেয়েদের অনেকে ওড়না দিয়ে মুখ ঢাকছেন। ঘরে এসি, ফ্যান চালিয়ে থাকতে হচ্ছে।
কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারের অবস্থাও ছিল একই। কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩৬.২ এবং ৩৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ের তাপমাত্রাও বাড়ছে। এদিন দার্জিলিংয়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২১ থেকে ২২ এবং কালিম্পংয়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন