কলকাতা: প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় ৪২ কোপে নৃশংস খুন! হাড় হিম করা সেই ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল গোটা রাজ্য। অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির সাজাও শুনিয়েছিল নিম্ন আদালত। ২০২২ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে বহুচর্চিত সুতপা চৌধুরীর সেই খুনের ঘটনায় সুশান্ত চৌধুরীর ফাঁসির সাজা রদের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। তার বদলে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শাব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত তার রায়ে জানিয়েছে, গ্রেপ্তারির ৪০ বছরের আগে সাজা মাফ চেয়ে আবেদন করা যাবে না। ওইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও দিতে হবে খুনি সুশান্ত চৌধুরীকে। এই রায়ে অবশ্য খুশি নয় সুতপার পরিবার।
২০২২ সালের ২ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ গোরাবাজার এলাকায় হেঁটে নিজের মেসে ফিরছিলেন সুতপা। সেইসময় প্রকাশ্য রাস্তায় সুতপাকে ফেলে ছুরি দিয়ে কোপের পর কোপ মারতে থাকতে সুশান্ত। মালদহ জেলার বাসিন্দা সুতপাকে বেশ কয়েকমাস ধরে উত্ত্যক্ত করছিল তাঁরই পূর্বপরিচিত যুবক সুশান্ত চৌধুরী। ওই কারণে সুতপার পরিবার তাঁকে বহরমপুরের একটি কলেজে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। সুতপা বহরমপুরে থাকার খবর পেয়ে বদলা নেওয়ার জন্য সুশান্ত গোরাবাজার এলাকায় একটি মেসবাড়ি ভাড়া নিয়ে তাঁকে কিছুদিন গোপনে অনুসরণ করতে থাকে। এরপর সুতপাকে খুন করার জন্য সে একটি ছুরি এবং একটি খেলনা পিস্তলও কেনে। ২ মে সুতপা যখন একা নিজের মেসে ফিরছিলেন। সেইসময় অন্ধকার গলির মুখে দাঁড়িয়ে সুশান্ত হঠাৎই সুতপাকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ওই কলেজ ছাত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে সুশান্ত তাঁদেরকে খেলনা পিস্তল দিয়ে ভয় দেখিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। যদিও খুনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামশেরগঞ্জ থানার পুলিসের সহযোগিতায় বহরমপুর থানার পুলিস সুশান্তকে গ্রেপ্তার করে।
২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট বহরমপুরের তৃতীয় ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের অতিরিক্ত ও জেলা দায়রা বিচারক সন্তোষকুমার পাঠক সুশান্তকে ফাঁসির সাজা শোনান। এরপর সুশান্তর তরফে নিম্ন আদালতের এই রায় চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করা হয়। তার প্রেক্ষিতে রায়ে ডিভিশন বেঞ্চ উল্লেখ করেছে, ‘ঘটনার সময় দোষীর বয়স ছিল ২১ বছর। বর্তমানে তার বয়স ২৪ বছর। একথা মাথায় রেখেই মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে দোষীর আমৃত্যু কারাবাসের সাজা উপযুক্ত বলেই মনে করছে আদালত।’ পাশাপাশি নজিরবিহীনভাবে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রেপ্তারির ৪০ বছরের আগে সুশান্ত সাজা কমানোর কোনও আবেদন কোনও আদালতে করতে পারবে না। সুতপার বাবা স্কুলশিক্ষক স্বাধীন চৌধুরী বলেন, ‘মেয়েটাকে কুপিয়ে কুপিয়ে খুন করেছিল ওই পাষণ্ড। এই রায়ে আমি বা আমার স্ত্রী পাপড়ি কেউই খুশি নই। ওই অমানুষটির ফাঁসির সাজা চেয়েই আমরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার চিন্তাভাবনা করছি। আমাদের আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’
.jpeg)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন