ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের ফের এক দফা নথি যাচাই শুরু, বেতন দেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

বুধবার, ৪ জুন, ২০২৫

ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের ফের এক দফা নথি যাচাই শুরু, বেতন দেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের



কলকাতা: ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের কাগজপত্র ঠিক থাকলে এবং নিয়মিত শ্রম দিয়ে থাকলে তাঁদের বেতন আটকানো যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে ফের নথি যাচাই শুরু হয়েছে এমন শিক্ষকদের। জুলাইয়ে এই মামলার শুনানি রয়েছে। তার আগে ডিআইদের মাধ্যমে নথি যাচাই করিয়ে আদালতে এফিডেভিট আকারে জমা দেবে রাজ্য। তবে এঁদের বেতন দিতে হলে রাজ্য সরকারের উপর কয়েকশো কোটির আর্থিক বোঝা চাপবে।

সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সংবিধানের ৩০ নম্বর ধারায় শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে তাদের স্বাধীনতা পাওয়া উচিত। এই যুক্তিতে ২০১৬ সালে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে কয়েকশো শিক্ষক নিয়োগ করে বহু মাদ্রাসা। তারা রাজ্য সরকার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে আদালতে মামলা করে। বলা হয়, সরকারি সাহায্য পেলেও কোনও সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজেরাই শিক্ষক নিয়োগ করতে পারে। সংবিধানেই সেই ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই যুক্তিতে কমিশনের বৈধতা খারিজ করে দিয়েছিল হাইকোর্ট। যদিও পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের বৈধতা বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে। শর্তসাপেক্ষে শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশও দেয়। তার ভিত্তিতে ২০১৮ সালে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করে কমিশন। এভাবে নিযুক্ত শিক্ষকদের বৈধতা বজায় রেখেছে আদালত। পাশাপাশি, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষকদের নথি যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ভবনে দু’মাস ধরে বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে’র তত্ত্বাবধানে নথি যাচাই হয়। সেটাও অবশ্য শিক্ষকদের পক্ষে যায়নি। তবে, সুপ্রিম কোর্টে এই শিক্ষকরা আবেদন করেছেন, তাঁরা মাদ্রাসায় এত বছর ধরে ক্লাস নিয়ে এলেও বেতন পাচ্ছেন না। সূত্রের খবর, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগে স্বজনপোষণ এবং টাকার খেলা চলেছে। অনেকে ক্লাসেও যাননি কোনওদিন। তাঁদের ভূতুড়ে শিক্ষক তকমা জুটেছে। নিয়োগের কাগজপত্র অনেক ক্ষেত্রেই ‘ব্যাকডেট’-এ তৈরি করা হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে তাও নেই। ডিআই’র তরফেও নিয়োগগুলির অনুমোদন মেলেনি। এসব যুক্তিতেই রাজ্য সরকার এই শিক্ষকদের আবেদন খারিজ করতে চাইছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকর্তা শান্তনু বসু বলেন, ‘বিষয়টি বিচারাধীন। তাই এ বিষয়ে কিছু বলব না।’ প্রসঙ্গত, এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে অধিকর্তার পদে ছিলেন আবিদ হুসেন। তিনি কমিশনের বৈধতার পক্ষেই লড়াই করে গিয়েছেন।

ওয়েস্ট বেঙ্গল মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক আবু সুফিয়ান পাইক বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির বদলে কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলা জরুরি। না হলে টাকার খেলা, স্বজনপোষণ শুরু হবে। মেধার সঠিক মূল্যায়ন হবে না। এই দাবিতে আমরা সঙ্ঘবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন