তেহরান ও তেল আভিভ: শুক্রবার রাত ৯টা ১৯ মিনিট। ইজরায়েলের সঙ্গে পুরোদমে যুদ্ধ চলছে। তার মধ্যেই আচমকা ভূমিকম্প ইরানে। কেঁপে উঠল সেমনান এলাকা। রাজধানী তেহরানেও কম্পন অনুভূত। রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৫.১। ঘটনাচক্রে মাত্র পাঁচদিন আগেই ২.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল ফোরদো এলাকায়। এই ফোরদোতেই রয়েছে ইরানের সবচেয়ে চর্চিত ও তথাকথিত ‘দুর্ভেদ্য’ আন্ডারগ্রাউন্ড পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র। আবার শুক্রবার রাতে কম্পনের উৎস যেখানে, তার নাকের ডগায় সেমনানের স্পেস অ্যান্ড মিসাইল কমপ্লেক্স। পাঁচদিনের ব্যবধানে দুই স্ট্র্যাটেজিক লোকেশনে এই ভূমিকম্প কি প্রাকৃতিক, নাকি ভূগর্ভে পরমাণু বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের ফল— ঘনাচ্ছে রহস্য! তাহলে কি ইজরায়েল, আমেরিকা সহ গোটা দুনিয়ার চোখে ধুলো দিয়ে পরমাণু অস্ত্রের মহড়ায় সফল হল ইরান? যুদ্ধের উত্তাপ বৃদ্ধির মধ্যেই সেই জল্পনা তুঙ্গে।
মূলত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের লক্ষ্যেই এয়ার স্ট্রাইক শুরু করেছিল ইজরায়েল। গত আটদিনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশ হামলা চালিয়েছে ফোরদো সহ অন্তত তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে। পাশাপাশি তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরিয়ে আলোচনার টেবলে ফেরাতে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও। গতকাল জেনিভার বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যদিও আলোচনা শেষে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, হামলা ও কূটনীতি একসঙ্গে চলা সম্ভব নয়। শনিবার ইস্তানবুলে তাঁর সুর আরও চড়েছে। সাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘আমেরিকার সমর্থনেই ইজরায়েল আমাদের নাগরিকদের উপর বোমাবর্ষণ করছে। স্বাভাবিকভাবে আমার পক্ষে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসা সম্ভব নয়।’ মূলত মুসলিম রাষ্ট্রগুলির সংগঠন ‘অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন’ (ওআইসি)-এর বৈঠকে যোগ দিতে ইস্তানবুলে এসেছেন আরাঘচি। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষিতে এই বৈঠক থেকে কী বার্তা আসে, সেদিকে নজর রাখছে কূটনৈতিক মহল।
নবম দিনেও পশ্চিম এশিয়ার দুই দেশের সংঘাত বিন্দুমাত্র কমেনি। ইজরায়েল সেনাবাহিনী এদিন ফের এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছে ইরানের ইসফাহান পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে। রাতভর ইজরায়েলি এয়ারস্ট্রাইকে ইরানি সেনার অন্তত তিন শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন বেহনাম শাহরিয়ারি, সইদ ইজাদি ও আমিন জোদাকি। লেবাননের হিজবুল্লা গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহে শাহরিয়ারির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আবার ইরানের এলিট কুসে বাহিনীর কমান্ডার ইজাদি ছিলেন গাজায় হামাসকে অস্ত্র ও অর্থ জোগানের মাথা। এদিন দক্ষিণ ইরানের সামরিক পরিকাঠামোকেও নিশানা করেছে ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান। তেহরানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ মহিলা ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জবাব দিয়েছে ইরানও। তেল আভিভের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ভেদ করে আছড়ে পড়েছে দু’টি ড্রোন। ক্ষয়ক্ষতি প্রচুর। হোলোন শহরের বহুতলে আছড়ে পড়েছে ইরানের সেজাল-২ আল্ট্রা হেভি ব্যালিস্টিক মিসাইল। ৭০০ কেজি ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা দু’হাজার কিলোমিটার। ফলে স্নায়ুর চাপ ক্রমে বাড়ছে ইজরায়েলেরও।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন