কলকাতা: পণ্য ও পরিষেবা কর থেকে যথাযথ পরিষেবা প্রাপ্তি দূরঅস্ত, এবার উঠল সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ। আর সেই অভিযোগ এল নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের রাজ্য গুজরাত থেকেই। সুরাতের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের সংগঠনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে জিএসটির তথ্য। নথিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলি জিএসটি নেটওয়ার্কে যে তথ্য আপলোড করে, সেসব তথ্য মিলছে পয়সা ফেললেই। সংগঠনের কর্তাদের দাবি, গত এক বছর ধরে তাঁরা জিএসটি সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে একাধিকবার চিঠি লিখে সতর্কও করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কেন্দ্র উদাসীনই থেকে গিয়েছে।
গত ৩১ মে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া দীর্ঘ চিঠিতে কড়া ভাষায় নালিশ ঠুকেছে সংগঠন। তারা বলেছে, এর আগে একাধিকবার দপ্তরের দুর্নীতি নিয়ে চিঠি গিয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সরকারের অন্দরের যোগসাজশ ছাড়া এমনটা চলতে পারে না। ভুলে ভরা জিএসটি সিস্টেম, আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে করদাতাদের। ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার রেট চার্ট তুলে ধরে অর্থমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, কীভাবে নিলামে তোলা হচ্ছে সরকারের প্রতি করদাতাদের আস্থা ও বিশ্বাসকে। জিএসটি আদায়ের থেকেও দ্রুত হারে বাড়ছে গোপন তথ্য বাইরে পাচারের প্রবণতা। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট হার্দিক কাকাদিয়া বলেন, ‘জিএসটিতে যা চলছে, তা শুধুমাত্র তথ্য পাচার নয়। কোনও সংস্থা কী পথে ব্যবসা করছে, কীভাবে লাভ করছে, সব গোপন তথ্য চলে যাচ্ছে প্রতিযোগী সংস্থার হাতে। এর পরিণতি ভয়ঙ্কর। জিএসটির তথ্য-সুরক্ষার তথাকথিত দুর্গ ভেঙে পড়েছে। এভাবে চললে, জিএসটি ব্যবস্থায় ভয়ঙ্কর দুর্যোগ ঘনিয়ে আসবে।’
শুধু যে জিএসটি সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়েই সংগঠন সরব হয়েছে, তা নয়। কর্তারা বলেন, আমরা নানা অভিযোগ তুলে ধরেছি অর্থমন্ত্রীর কাছে। যেমন, আবেদনের সাত দিনের মধ্যে জিএসটি রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার কথা সরকারের। কিন্তু প্রায় সব ক্ষেত্রেই বলা হচ্ছে আবেদনটি ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’। তাতে রেজিস্ট্রেশন দিতে ৩০ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। যেখানে আবেদনকারীর তথ্য ও নথিকে ভরসা করে প্যান কার্ড ইস্যু হয় এবং কোম্পানি তৈরি হয়, সেই একই পদ্ধতি কেন জিএসটি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না? যাবতীয় কড়াকড়ি কি রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার পর করা যায় না? আর কেনই বা জিএসটির রিফান্ড দিতে ৬০ দিন পর্যন্ত সময় নেওয়া হবে? এতে ব্যবসার কার্যকরী মূলধন আটকে থাকে। সেই টাকা দ্রুত ফেরত পাওয়ার জন্য ‘দর’ হাঁকছেন জিএসটি আধিকারিকদের একাংশ। সোজা কথায়, ঘুষ। যেখানে আয়করে ‘ফেসলেস’ অ্যাসেসমেন্ট ব্যবস্থা চালু আছে, জিএসটিতে কেন তা হবে না, প্রশ্ন তোলা হয়েছে চিঠিতে। অন্যদিকে, আইনের সুযোগ নিয়ে বকেয়া আদায়ের নামে অযৌক্তিকভাবে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যবসার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হচ্ছে—এই অভিযোগও করেছেন তাঁরা। হার্দিক কাকাদিয়া বলেন, ‘আমরা মোট ১২ দফা অভিযোগ জানিয়েছি। সম্ভাব্য সমাধানের পথও বলেছি। সরকার যদি তা বিবেচনা করে, মঙ্গল।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন