আগস্ট থেকেই ১০০ দিনের কাজ, বরাদ্দ কত? - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

শুক্রবার, ২০ জুন, ২০২৫

আগস্ট থেকেই ১০০ দিনের কাজ, বরাদ্দ কত?



কলকাতা: অপেক্ষা শুধু কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের কপি হাতে পাওয়ার। তারপরই কেন্দ্রকে চিঠি পাঠাবে নবান্ন। জানতে চাওয়া হবে, ১ আগস্ট থেকে কাজ শুরুর জন্য রাজ্যের পদক্ষেপ কী হবে। এবং অবশ্যই নবান্নের জিজ্ঞাস্য, বাংলার জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কত শ্রম বাজেট ধার্য করতে চলেছে মোদি সরকার। বিগত সাড়ে তিন বছর ধরে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ থাকার পর অক্সিজেন জুগিয়েছে হাইকোর্টের রায়। তাই ‘প্রস্তুতি’তে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না বাংলার পঞ্চায়েত দপ্তর। অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে শুধু প্রয়োজনীয় কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর। আর তাই চিঠির তোড়জোড় শুরু হয়েছে নবান্নের তরফে। সংশয় অবশ্য থাকছে। কারণ, এতদিন সবটাই হাতের মুঠোয় ছিল কেন্দ্রের। বারবার তদ্বির করলেও তাই বাংলার প্রাপ্য মেটানো দূরঅস্ত, ১০০ দিনের কাজ পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল। হাইকোর্ট এখন শুধু প্রকল্প চালুর নির্দেশই দেয়নি, দুর্নীতি বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত চাপানোর স্বাধীনতাও দিয়েছে কেন্দ্রকে। ফলে ধাক্কা খেয়েছে দিল্লির ‘রাজনৈতিক’ দরবার। উপায় খুঁজতে বৃহস্পতিবার প্রায় গোটা দিন গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব শৈলেশকুমার সিং ব্যস্ত ছিলেন বৈঠকে। আলোচনা হয়েছে আইনজ্ঞদের সঙ্গেও। মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান দিল্লিতে নেই। বুধবার রাতেই চলে গিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের বিদিশায়। ছোটছেলের জন্মদিনের জন্য। রাজধানীতে ফিরবেন সোমবার। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থমকে রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, প্রয়োজনে হাইকোর্টে রিভিউ পিটিশন, অথবা সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন করতে পারে কেন্দ্র। তবে সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে আদালতের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করা নিয়ে ধন্দে রয়েছে সরকার। কারণ, তাহলে রাজনৈতিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়বে বিজেপি। আগামী বছরই বাংলায় বিধানসভার ভোট। তাই অত্যন্ত মেপে পা ফেলতে চান নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও বসে নেই। জানা যাচ্ছে, কেন্দ্র যাতে একতরফা কিছু করতে না পারে, তাই সুপ্রিম কোর্টে কেভিয়েট (আগাম আবেদন) করে রাখতে পারে নবান্ন। 

বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত অবশ্য হাইকোর্টের অর্ডারের কপি হাতে পায়নি প্রশাসন। তবে কাজ শুরু করতে কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে পরবর্তী কার্যকলাপ কী হবে, তা নিয়ে রাজ্যের আধিকারিকরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। বাংলার ক্ষেত্রে মনরেগা আইনের ২৭ নম্বর ধারা আরোপ করা রয়েছে। ফলে রাজ্যের জন্য ‘লেবার বাজেট’ বা শ্রমদিবসের বরাদ্দ সুনিশ্চিত করতে তা প্রত্যাহার আবশ্যিক। সেক্ষেত্রে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাও জানতে চাইবে নবান্ন। আবার অ্যানুয়াল প্ল্যানের উপর ভিত্তি করে ‘লেবার বাজেট’ নির্দিষ্ট করতে প্রতিটি রাজ্যের সঙ্গে বৈঠকে বসে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের পদস্থ কর্তারা। এবছর এই এগজিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে ডাকাই হয়নি বাংলাকে। চলতি অর্থবর্ষের আড়াই মাস অতিক্রান্ত। এই অবস্থায় বরাদ্দ এবং শ্রমদিবসের হিসেব জানাটা অবিলম্বে দরকার। সেই উত্তর কেন্দ্রই দিতে পারে। তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে রাজ্যের দিতে যাওয়া এই চিঠি এবং তার উত্তর। অর্থবর্ষের বাকি আট মাসেও রাজ্য কত শ্রমদিবস তৈরি করতে পারবে, সেই অঙ্কও ইতিমধ্যে কষে ফেলেছে রাজ্য। পাশাপাশি, রাজ্যের বকেয়া টাকা মেটানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রের দৃষ্টিভঙ্গি কী, সেটাও জানতে চায় রাজ্য।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন