পুরুলিয়ার জল ছবি: বছরের পর বছর ঘুরলেও মেটে না জলকষ্ট - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

সোমবার, ৯ জুন, ২০২৫

পুরুলিয়ার জল ছবি: বছরের পর বছর ঘুরলেও মেটে না জলকষ্ট



পুরুলিয়া: ১৮৩৮ সালে মানভূম জেলার সদর দপ্তর মানবাজার থেকে পুরুলিয়ায় স্থানান্তরিত হয়। তখনই শহরে জলের সমস্যার বিষয়টি নজরে আসে ডেপুটি কমিশনার(ডিসি) কর্নেল টিকলের। সেই বছরই তাঁর উদ্যোগে জেলের কয়েদিদের দিয়ে প্রায় ৮৫ একর জায়গাজুড়ে জলাশয় খননের কাজ শুরু হয়। যা বর্তমানে ‘সাহেব বাঁধ’ নামে পরিচিত। তবে, ব্রিটিশরা নিজেদের স্বার্থে পুরুলিয়া শহরের জলকষ্ট লাঘব করার চেষ্টা করলেও, জেলার গ্রামাঞ্চলের মানুষজন রয়ে যান সেই তিমিরেই।

ব্রিটিশ-বিদায় হয়েছে ৭৮বছর আগেই। তারপর কংগ্রেস, নিরবছিন্ন বাম জামানার বদল ঘটিয়ে রাজ্যে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু, পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে ব্যর্থ সব সরকারই। আজও জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের তৃষ্ণা মেটে ঝর্ণা কিংবা কুয়োর ঘোলা জলে। শুধু গ্রামবাসীদেরই নয়, জলকষ্টে ভুগতে হয় শহরের বাসিন্দাদেরও। জলের সমস্যা মেটাতে কংগ্রেস কিংবা বাম সরকারের অবদান আজও প্রশ্নের মুখে। তৃণমূল সরকারের দাবি, পালাবদলের পর থেকেই পুরুলিয়া জেলায় জলের সমস্যা মেটাতে বহু উদ্যোগই নেওয়া হয়েছে। কয়েকশো চেকড্যাম, পুকুর, খনন করা হয়েছে। কয়েক হাজার সোলার পাম্প, টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। গ্রীষ্মকালে কোথাও সমস্যা দেখা দিলে জলের ট্যাঙ্ক পাঠিয়ে সামাল দেওয়া হয়। 

তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ, আজও জলের সমস্যা দূর হয়নি। চেকড্যামগুলি জলে ধুয়ে গিয়েছে। বসানোর কিছুদিনের মধ্যেই খারাপ হয়ে যায় সোলার পাম্প। গ্রীষ্মে জল মেলে না টিউবওয়েলে। শুকিয়ে যায় কুয়োর জলও। তাই আজও আড়ষা, কোটশিলা কিংবা অযোধ্যার প্রত্যন্ত পাহাড়ী এলাকার মানুষজন জলাশয়ের পাশে চুয়া খুঁড়ে পানীয় জল সংগ্রহ করেন।

বিজেপির অবশ্য দাবি, পুরুলিয়ায় জলের সমস্যা মেটাতে একমাত্র ভরসা কেন্দ্রের ‘জলজীবন মিশন’ প্রকল্প। নাম বদল হয়ে এই প্রকল্পই রাজ্যে ‘জলস্বপ্ন’। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি নলবাহিত পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া। জেলার প্রায় পাঁচ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭২৬টি বাড়িতে নলবাহিত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২০২০ সালের আগস্টে কাজ শুরু হয়। বরাদ্দ ধরা হয় প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। প্রশাসনের দাবি, এরমধ্যে প্রায় এক লক্ষ ৭৮ হাজার বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। যদিও অভিযোগ, অধিকাংশ বাড়িতে কল লাগানো হলেও জল পড়ে না। বাসিন্দাদের ক্ষোভ, জলই যদি না পড়ে, তাহলে শুধুমাত্র কল দিয়ে পরিহাস কেন?

প্রশাসন সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ করার জন্য সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু, হঠাৎ করেই গত অক্টোবর মাস থেকে ‘জলজীবন মিশন’ প্রকল্পের কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যায়। সেই কারণে প্রকল্প শেষ করার সময়সীমা ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। রাজনৈতিক সমালোচকদের দাবি, গত নির্বাচনগুলিতে জলই ডুবিয়েছে তৃণমূলকে। এবছরের ভোট বৈতরণী পার করতে ‘জলজীবন মিশন’ প্রকল্পই ছিল অন্যতম ভরসা। সুতরাং, সেই ক্ষততে ‘জাইকা’ প্রকল্প কতটা প্রলেপ দিতে পারবে, সেবিষয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন