কলকাতা: কিছুদিন আগে গর্ব করে মধ্যপ্রদেশের প্রথম মেট্রো পরিষেবা ইন্দোরে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে, আসল ঘটনা হল, সফল উদ্বোধন তো দূরের কথা, বড়সড় বিপর্যয়ের মুখেই পড়তে পারত এই পরিকাঠামো। কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই মেট্রোর পিলার বসানো শুরু হয়েছিল। পরে অনেকে সন্দেহ করেন, এই পিলারগুলি চলমান মেট্রো রেকের ওজন নিতে পারবে না। কলকাতার পোস্তা ফ্লাইওভার বিপর্যয়ের কথা অনেকেরই মনে রয়েছে। তবে, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরু মেট্রোর পিলার ভেঙেও বহু প্রাণহানির ঘটনা অতীতে ঘটেছে। সেই পরিণতিই হতে পারত ইন্দোরের ক্ষেত্রেও। তবে, বাঁচিয়ে দিলেন দুই বাঙালি ইঞ্জিনিয়ার।
মোট মেট্রো রেলের দৈর্ঘ্য সাকুল্যে ৬ কিলোমিটার। তবে, এটুকু দৈর্ঘ্যেই মাটির চরিত্র একেক জায়গায় একেক রকম। তাই সর্বত্র পিলারের পাইলিং একরকম হওয়ার কথা নয়। আর এই পাইলিংয়ের উপরই নির্ভর করে থাকে পিলারের শক্তি। কোথাও গোলমাল হচ্ছে দেখে ডাক পড়ে আইআইটি বম্বের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ার প্রফেসর দীপঙ্কর চৌধুরীর। তিনি তাঁর অধীনস্থ আরেক বাঙালি গবেষক চইদুল হক চৌধুরীসহ কয়েকজনকে নিয়ে পিলারগুলি পরিদর্শন করেন। দীপঙ্করবাবুর কথায়, ‘দেখা গেল পিলারগুলি যথেষ্ট দুর্বল। তবে, সেগুলি ভেঙে নতুন করে তৈরি করা সম্ভব নয়। তার চেয়ে সেগুলির চারপাশ দিয়ে গভীর গাঁথনি তৈরি করে শক্তি বাড়ানোর পরামর্শ দিই। পাথুরে এলাকায় চার পাঁচটি পাইলিং আর নরম মাটিতে সাতটি পর্যন্ত পাইলিংয়ের প্রয়োজন হয়েছে। এটি এতটাই অভিনব যে আমেরিকান সোসাইটি অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারর্সের জার্নালে গবেষণাপত্র আকারে প্রকাশিত হয়েছে।’ দীপঙ্করবাবু তাঁর গবেষকদের পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ এই দুই কৃতী বঙ্গসন্তানের পরামর্শেই সফলভাবে পরিষেবা শুরু হল অহল্যাবাই হোলকারের নামাঙ্কিত ইন্দোর মেট্রোর।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন